1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. roberttaylor1755ywts@gsasearchengineranker.com : anyapraed2271 :
  3. davidwilson2900s4d@verifiedlinklist.com : gordonhand83 :
  4. jennifermartinez5223xvyc@gsasearchengineranker.com : gustavostamper :
ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিরিঞ্জা ভ্যালি

প্রতিনিধির নাম
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মিরিঞ্জা ভ্যালি (Mirinja Valley) ও মারাইংছা হিল (Maraingcha Hill) বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের বুকে অবস্থিত একটি নতুন পর্যটন স্থান। এখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল পাহাড় আর মেঘের খেলা উপভোগ করা। এখানে আকাশ-মেঘ ভ্রমণপিপাসু মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।

প্রকৃতি এই এলাকাটিকে সাজিয়েছে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে। এখানে ইচ্ছে করলেই ছোঁয়া যায় মেঘ, আকাশকেও মনে হয় বেশ কাছে। মাতামুহুরী নদীর সুন্দর ভিউ দেখা যায় এখান থেকে। রাতে শহরের আলোতে যেন সৌন্দর্য হয় আরও বৈচিত্র্যময়। বর্তমানে মিরিঞ্জা ভ্যালি ও মারাইংছা হিল পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় একটা জায়গা।

এখানে আপনি প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন। বিদ্যুৎ নেই বলে এখানে রাত নিবিড়। রাতভর শোনা যায় শিশির পতনের শব্দ। বর্তমানে বাংলাদেশের পর্যটক খাতে মিরিঞ্জা দারুন এক আকর্ষণের নাম সাজেকের মতই দিনে দিনে এর আকর্ষণ বেড়েই চলেছে।

মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার উপায়
দেশের যেকোনো জায়গা থেকে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে। সেখান থেকে লামা-আলীকদম পথে জিপ, চান্দের গাড়ি, বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়া যায়। বাস কিংবা জিপের ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা। লামা-আলীকদম সড়কে মিরিঞ্জা বাজারে গাড়ি থেকে নেমে ১০ মিনিট হাঁটলেই মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্টগুলো দেখতে পাবেন।

এছাড়া আপনার সুবিধামতো চট্টগ্রাম এসে সেখান থেকে কক্সবাজার গামী বাসে উঠে চকরিয়া নেমে উপরে উল্লেখিত পথে যেতে পারবেন মিরিঞ্জা ভ্যালি।

মিরিঞ্জা ভ্যালির দূরত্ব ঢাকা থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার, চকরিয়া থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে এবং কক্সবাজার থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার।

আরও পড়ুনঃ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার উপায়

মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্ট ও কটেজ
মিরিঞ্জা ভ্যালিতে ৪০টিরও বেশি জুম ঘর ও রিসোর্ট রয়েছে। যেহেতু এখন এই জায়গাটি খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে, দিন দিন জুম ঘর স্টাইলের রিসোর্টের সংখ্যা বেড়ে চলছে। প্রতিটি জুম ঘরের জন্য ভাড়া ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। বর্তমানে এটাচ বাথরুম ও ব্যালকনি সহ কিছু গুছানো ভালো রিসোর্ট তৈরি হয়েছে, যে গুলোতে থাকতে খরচ হবে ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা। কাপল রুম যেমন আছে, ৪-১০ জন একসাথে থাকার জুম ঘরও পাবেন। মিরিঞ্জা ভ্যালির জনপ্রিয় রিসোর্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

মিরিঞ্জা হিল রিসোর্ট
মিরিঞ্জা হ্যাভেন রিসোর্ট
মারাইংছা হিল রিসোর্ট
আগারং রিসোর্ট
জঙ্গল বিলাস রিসোর্ট
মিরিঞ্জা হাফং রিসোর্ট
চুংদার বক
মিরিঞ্জা ইকো রিসোর্ট
জুম ঘর ছাড়াও এখানে তাবুতে থাকার ব্যবস্থা আছে। ভিন্ন স্বাদ নিতে থাকতে পারেন তাবু ঘরেও। খাবারের প্যাকেজ সহ ভাড়া সাধারণত জনপ্রতি ৮০০ – ১০০০ টাকা। যেহেতু এই প্লেস এখন খুবই পপুলার তাই যেতে চাইলে আগেই কোন রিসোর্ট বুকিং দিয়ে যাওয়া ভালো হবে, বিশেষ করে ছুটির দিন গুলোতে।

এখানে এখনো ভালো বিদুৎ সংযোগ নেই , তবে সোলার প্যানেলের সাহায্যে প্রয়োজনীয় বিদুৎ পাওয়া যায়। পর্যটকদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস চার্জ করতে জেনারেটর চালানো হয় অনেক রিসোর্টে।

কোথায় খাবেন
মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্টগুলোতে তিন বেলা প্যাকেজ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে সকালে ডিম-খিচুড়ি কিংবা মুরগির মাংস। দুপুরে সাদা ভাত, ডাল, মুরগি এবং সবজি ও সালাদ। এ ছাড়া রাতে বারবিকিউ, চিকেন, কাবাব ও পরোটার ব্যবস্থা রয়েছে। তিন বেলা খাবারের প্যাকেজের মূল্য ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা। এ ছাড়া পর্যটকেরা চাইলে নিজেরাও রান্না করে খেতে পারবেন।

আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
মিরিঞ্জা ভ্যালির কাছেই আছে মাতামুহুরী নদী, আলিকদমে রয়েছে মারাইংতং পাহাড় ও আলীর গুহা। যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ডিম পাহাড় হয়ে বান্দরবান যাবার। এছাড়া মিরিঞ্জা ভ্যালি থেকে কক্সবাজার খুব কাছেই। মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণের যুক্ত করতে পারেন কক্সবাজার ভ্রমণকেও।

ভ্রমণ টিপস
যেহেতু বিদ্যুত এর সংযোগ নেই সেখানে, তাই সাথে করে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাওয়া ভালো হবে। আর সাথে করে অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি কিংবা জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে, যাত্রা পথে চেক পোস্টে আপনার এই পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫ ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

মিরিঞ্জা ভ্যালি

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

মিরিঞ্জা ভ্যালি (Mirinja Valley) ও মারাইংছা হিল (Maraingcha Hill) বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের বুকে অবস্থিত একটি নতুন পর্যটন স্থান। এখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল পাহাড় আর মেঘের খেলা উপভোগ করা। এখানে আকাশ-মেঘ ভ্রমণপিপাসু মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।

প্রকৃতি এই এলাকাটিকে সাজিয়েছে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে। এখানে ইচ্ছে করলেই ছোঁয়া যায় মেঘ, আকাশকেও মনে হয় বেশ কাছে। মাতামুহুরী নদীর সুন্দর ভিউ দেখা যায় এখান থেকে। রাতে শহরের আলোতে যেন সৌন্দর্য হয় আরও বৈচিত্র্যময়। বর্তমানে মিরিঞ্জা ভ্যালি ও মারাইংছা হিল পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় একটা জায়গা।

এখানে আপনি প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন। বিদ্যুৎ নেই বলে এখানে রাত নিবিড়। রাতভর শোনা যায় শিশির পতনের শব্দ। বর্তমানে বাংলাদেশের পর্যটক খাতে মিরিঞ্জা দারুন এক আকর্ষণের নাম সাজেকের মতই দিনে দিনে এর আকর্ষণ বেড়েই চলেছে।

মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার উপায়
দেশের যেকোনো জায়গা থেকে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে। সেখান থেকে লামা-আলীকদম পথে জিপ, চান্দের গাড়ি, বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়া যায়। বাস কিংবা জিপের ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা। লামা-আলীকদম সড়কে মিরিঞ্জা বাজারে গাড়ি থেকে নেমে ১০ মিনিট হাঁটলেই মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্টগুলো দেখতে পাবেন।

এছাড়া আপনার সুবিধামতো চট্টগ্রাম এসে সেখান থেকে কক্সবাজার গামী বাসে উঠে চকরিয়া নেমে উপরে উল্লেখিত পথে যেতে পারবেন মিরিঞ্জা ভ্যালি।

মিরিঞ্জা ভ্যালির দূরত্ব ঢাকা থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার, চকরিয়া থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে এবং কক্সবাজার থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার।

আরও পড়ুনঃ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার উপায়

মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্ট ও কটেজ
মিরিঞ্জা ভ্যালিতে ৪০টিরও বেশি জুম ঘর ও রিসোর্ট রয়েছে। যেহেতু এখন এই জায়গাটি খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে, দিন দিন জুম ঘর স্টাইলের রিসোর্টের সংখ্যা বেড়ে চলছে। প্রতিটি জুম ঘরের জন্য ভাড়া ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। বর্তমানে এটাচ বাথরুম ও ব্যালকনি সহ কিছু গুছানো ভালো রিসোর্ট তৈরি হয়েছে, যে গুলোতে থাকতে খরচ হবে ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা। কাপল রুম যেমন আছে, ৪-১০ জন একসাথে থাকার জুম ঘরও পাবেন। মিরিঞ্জা ভ্যালির জনপ্রিয় রিসোর্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

মিরিঞ্জা হিল রিসোর্ট
মিরিঞ্জা হ্যাভেন রিসোর্ট
মারাইংছা হিল রিসোর্ট
আগারং রিসোর্ট
জঙ্গল বিলাস রিসোর্ট
মিরিঞ্জা হাফং রিসোর্ট
চুংদার বক
মিরিঞ্জা ইকো রিসোর্ট
জুম ঘর ছাড়াও এখানে তাবুতে থাকার ব্যবস্থা আছে। ভিন্ন স্বাদ নিতে থাকতে পারেন তাবু ঘরেও। খাবারের প্যাকেজ সহ ভাড়া সাধারণত জনপ্রতি ৮০০ – ১০০০ টাকা। যেহেতু এই প্লেস এখন খুবই পপুলার তাই যেতে চাইলে আগেই কোন রিসোর্ট বুকিং দিয়ে যাওয়া ভালো হবে, বিশেষ করে ছুটির দিন গুলোতে।

এখানে এখনো ভালো বিদুৎ সংযোগ নেই , তবে সোলার প্যানেলের সাহায্যে প্রয়োজনীয় বিদুৎ পাওয়া যায়। পর্যটকদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস চার্জ করতে জেনারেটর চালানো হয় অনেক রিসোর্টে।

কোথায় খাবেন
মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্টগুলোতে তিন বেলা প্যাকেজ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে সকালে ডিম-খিচুড়ি কিংবা মুরগির মাংস। দুপুরে সাদা ভাত, ডাল, মুরগি এবং সবজি ও সালাদ। এ ছাড়া রাতে বারবিকিউ, চিকেন, কাবাব ও পরোটার ব্যবস্থা রয়েছে। তিন বেলা খাবারের প্যাকেজের মূল্য ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা। এ ছাড়া পর্যটকেরা চাইলে নিজেরাও রান্না করে খেতে পারবেন।

আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
মিরিঞ্জা ভ্যালির কাছেই আছে মাতামুহুরী নদী, আলিকদমে রয়েছে মারাইংতং পাহাড় ও আলীর গুহা। যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ডিম পাহাড় হয়ে বান্দরবান যাবার। এছাড়া মিরিঞ্জা ভ্যালি থেকে কক্সবাজার খুব কাছেই। মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণের যুক্ত করতে পারেন কক্সবাজার ভ্রমণকেও।

ভ্রমণ টিপস
যেহেতু বিদ্যুত এর সংযোগ নেই সেখানে, তাই সাথে করে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাওয়া ভালো হবে। আর সাথে করে অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি কিংবা জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে, যাত্রা পথে চেক পোস্টে আপনার এই পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো