পাকিস্তানে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২
পাকিস্তানে ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যা ও বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৪৫ জনকে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা শনিবার (২৮ জুন) এক বিবৃতিতে জানায়, গত ৩৬ ঘণ্টায় আকস্মিক বন্যা ও ছাদ ধসে ১৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮ জনই শিশু। শুধুমাত্র সোয়াত উপত্যকাতেই ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার থেকে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
আলাদা প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও ডন।
এদিকে ২৬ জুন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ ও তার ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াত ও মালাকান্দ জেলায় নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং এখনও নিখোঁজ আছেন ১৭ জন। এছাড়া আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ছয়জনকে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর বরাত দিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন জানিয়েছে, বর্ষণ ও বন্যায় সোয়াত জেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অনেক বেশি। নিহত ১১ জনের মধ্যে ১০ জন সোয়াত জেলার, বাকি ১ জন মালাকান্দ জেলার; আর নিখোঁজদের সবাই সোয়াতের বাসিন্দা ছিলেন।গত তিন দিনের প্রবল বর্ষণে খাইবার পাখতুনখোয়া উপত্যকার সব নদীর পানি বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সোয়াত উপজেলার প্রধান নদী সোয়াতের পানি। পিডিএমএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বন্যায় সোয়াত নদীর আশপাশের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৫৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পানি বন্দি হয়ে আছেন প্রায় ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ। শনিবার দুপুরের মধ্যে তাদের বেশিরভাগকেই উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যার ব্যাপারে আগাম সতর্কতা সংকেত জারি না করা এবং উদ্ধারকাজ শুরু হতে বিলম্ব হওয়ায় সোয়াত জেলার তিন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সাময়িক বহিষ্কারাদেশ দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্য সচিব শাহাব আলী শাহ।











