প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে আগ্রহী আইএমএফ
চলমান অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, ঋণ ঝুঁকি পর্যালোচনা ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে চলমান ঋণ প্রকল্প যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। সংস্থাটির সঙ্গে চলমান ঋণ প্রকল্পের ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তি আগামী জুনে ছাড় করার কথা রয়েছে। যে ঋণচুক্তি করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের দেড় বছর পেরিয়েছে। অবশ্য এই ঋণ কর্মসূচিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। বাংলাদেশ অন্যান্য বিদেশি ঋণের রি-পেমেন্ট (পরিশোধ) স্বাভাবিক রেখেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনীতির চড়াই-উতরাই সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো কিস্তি খেলাপি হয়নি বাংলাদেশ। তবে ঋণের ঝুঁকি ও পরিশোধের চাপ দুটিই বেড়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক চাপও বেড়েছে। এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট প্রণয়ন কাজও শুরু হতে যাচ্ছে। এসব পর্যালোচনায় ঢাকায় আসছে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল। এজন্য নতুন সরকারের পরিকল্পনা জানতে এবং আইএমএফের পরিকল্পনা জানাতে চলতি মাসের প্রথমদিকে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। এই প্রতিনিধিদলটি ঢাকায় এসে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ওই মিশনটি বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, এনবিআর, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে বৈঠক করবে। অবশ্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতির অবনতি হলে মিশনটির ঢাকা সফর কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার ধসে পড়া অর্থনীতিকে একপ্রকার টেনেই তুলেছে বলে মনে করে আইএমএফ। এজন্য পতনের হাত থেকে রক্ষা করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে দেড় বছরের ব্যবধানে ১৭ বিলিয়ন থেকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের বিপুল পরিমাণ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়েছে। টানা প্রায় চার বছর ধরে মূল্যস্ফীতির চাপ দুই অঙ্কের কাছাকাছিই রয়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ভাটা পড়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের হারও গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বৈদেশিক ঋণ ছাড় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইআরডির একটি সূত্র জানায়, আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি ও সংস্কার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে আইএমএফ। এই মিশনে নেতৃত্ব দেবেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। মিশনটি দুই দিন ঢাকায় অবস্থান করবে। সম্ভাব্য সফরসূচি ঠিক করা হয়েছে আগামী ৯ অথবা ১০ মার্চ। দলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সবুজ সংকেতও দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে আইএমএফের ঋণের ষষ্ঠ কিস্তির প্রায় ৮০ কোটি ডলার ছাড় করার কথা ছিল। কিন্তু তা করেনি। সে সময় দুই পক্ষের আলোচনাক্রমে সিদ্ধান্ত হয় নির্বাচিত নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই অর্থ ছাড় করা হবে। কারণ সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে আইএমএফ। আর সে কারণেই উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল নতুন সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে ঢাকায় আসছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে চুক্তিবদ্ধ হয়। পরে তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যালোচনা শেষে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। মোট আট কিস্তিতে সব অর্থ ছাড় হওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ।















