আমরা আজগর আলীর পাশে আছি বিদায় অনুষ্ঠানে সিংড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৫ নং চামারী ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘদিন কর্মরত একজন হতদরিদ্র অসহায় গ্রাম পুলিশ সদস্য মোঃ আজগর আলী (৫৯) এর বিদায় উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ০৫ জুলাই ২০২৬, রবিবার বিকাল ৩:০ ঘটিকায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদায়ী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন,
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব হাবিবুর রহমান স্বপন মোল্লা। সার্বিক পরিচালনা করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাবর আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আশরাফুল সরদার এবং সকল ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ, উদ্যোক্তা ও পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-
কর্মচারীবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন আজগর আলী দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতো একজন সৎ ও পরিশ্রমী কর্মী পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের বিষয়। চাকরি জীবন শেষ হলেও আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পাশে আছি। ভবিষ্যতে তার যেকোনো সমস্যায় আমরা সহযোগিতা করবো ইনশাআল্লাহ।”*
বক্তারা বলেন, আজগর আলী দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ইউনিয়ন পরিষদের সম্পদ পাহারা ও জনগণের সেবায় তার অবদান চামারীবাসী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
বিদায়ী গ্রাম পুলিশ সদস্যকে পরিষদের পক্ষ থেকে ফুল, ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয় এবং পরিষদের চেয়ারম্যান বিদায়ী আজগর আলীর বিষয়ে পরবর্তীতে সময়ে বিভিন্নভাবে পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
বিদায়ী বক্তব্যে আজগর আলী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের সকলের সহযোগিতা পেয়েছি বলেই এত বছর দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ-সম্পদ, জমি-জমা কিছুই নেই। আমি গত ২৯ বছর পরিবারকে নিয়ে পরিষদেই কাটিয়েছি। চাকরিজীবনে প্রতি মাসে যে টাকা বেতন পেয়েছি, তাই দিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, এখন চাকরি শেষ হয়ে গেল, বয়সও অনেক হয়ে গিয়েছে। সামনের দিনগুলো কিভাবে যাবে, কি খাব, সেই চিন্তাটাই এখন বেশি হচ্ছে। পরিবার নিয়ে রাত্রি যাপন করার জন্য ভিটেমাটি, ঘর-বাড়ি কিছুই নেই আমার। দুইটি ছেলে সন্তান। একজন সবকিছু শেষ করে প্রবাসী জীবনে আছেন, কষ্টের মধ্যে বেতন ঠিকমতো নেই। আরেকটি ছেলে পরিবার নিয়ে গার্মেন্টসে আছেন, সে নিজেই ঠিকমতো চলতে পারে না, আমাকে দেখাশোনাও করে না।
পরিবার নিয়ে রাত্রি যাপন করার জায়গা না থাকায়, পরিষদের চেয়ারম্যান এবং স্টাফদের সহযোগিতায় সরকারি জায়গায় ১২টি টিন দিয়ে একটি ছাপরা ঘর তুলে দিয়েছেন, ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড পাঙ্গাসিয়া হাটখোলায়। বিদায়ী আজগর আলী আবেগাপ্লুত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার ও পরিষদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন বাকি জীবন একটু ভালোভাবে কাটাতে পারি।”
অনুষ্ঠান শেষে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।



















