গোপালগঞ্জে প্রকাশ্যে নির্যাতন, বিষপান করল ৮ম শ্রোনীর স্কুলছাত্রী
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক যুবককে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান ও মানসিক চাপে অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে।
গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বরইভিটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মুকসুদপুর উপজেলার ধর্মরায়ের বাড়ি গ্রামে তার নানা স্বপন মজুমদারের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। অপর ভুক্তভোগী যুবক কাশিয়ানী উপজেলার রাহুথড় গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনে স্কুল চলাকালীন সময়ে ছাত্রীকে রাহুথড় বড় ব্রিজ এলাকা থেকে এবং যুবককে তার বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের বেঁধে রাখা হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই ছাত্রী। পরে তিনি বিষপান করলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনায় হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক এক নেতা, স্থানীয় যুবক জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানা গেছে।
অভিযুক্ত নয়ন গোলদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার পর কয়েকজন যুবক তাদের নিয়ে যাচ্ছিল। পরে তিনি তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেন। গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। পরে বিষয়টি জানতে পারেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























