মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সংলগ্ন নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় আরাকান আর্মির তৎপরতা নিয়ে সতর্ক রয়েছে বাংলাদেশ।

সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সেন্টমার্টিন সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করা হয়েছে। নাফ নদী ও সাগরে বাংলাদেশি জেলেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আরাকান আর্মির হাতে বাংলাদেশি জেলেদের আটকের ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ আগস্টে আটক ২৪ জেলেকে বিজিবির মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ৬ জন রোহিঙ্গা ছিলেন।

মিয়ানমারের মংডু এলাকায় আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর নাফ নদীতে নৌযান চলাচল ও সীমান্ত বাণিজ্যেও প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত ও জলসীমার নিরাপত্তার সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করা প্রয়োজন।

কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য ও সার্বভৌম ভূখণ্ড। দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটির নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সক্ষম। জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমি রক্ষায় বিজিবি সদা তৎপর। আরাকান আর্মির কোনো আগ্রাসনের চিন্তা বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুজব বা আতঙ্ক নয়—সেন্টমার্টিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে বিজিবি, সমুদ্রে কোস্ট গার্ড এবং কূটনৈতিক তৎপরতার সমন্বয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।