বর্তমান সরকার মানবিক সরকার এবং গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের যেকোনো উদ্যোগ থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে সংবাদকর্মীরা এখন থেকে ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবেন। আজ ৪ অক্টোবর
​শুক্রবার, সকালে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর উদ্যোগ ও সভাপতিত্বে আয়োজিত ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর ওরিয়েন্টেশন এবং সদ্য সমাপ্ত এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
​বক্তব্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, হলুদ সাংবাদিকতা রোধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। বিগত ১৫ বছরের ভয়ভীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “কাজ করতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এখন মানবিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। আমরা মিডিয়া কন্ট্রোল করছি না এবং ভবিষ্যতেও করব না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে এবং একে কীভাবে আরও স্বাধীন করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।”
​সুস্থ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখা এবং অপসাংবাদিকতা রোধে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পিআইবি (প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ)-এর মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে সাংবাদিকতার মানদণ্ড বজায় থাকে এবং জনগণ সঠিক খবর পায়। তবে বাকস্বাধীনতার নামে কাউকে হেয় করা বা কারও জন্য সামাজিক হুমকি তৈরি হয়—এমন কাজ বা লেখালেখি থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
​বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিচার বিভাগ স্বাধীন দেখতে চাই, এখানে কোনো হস্তক্ষেপ করতে চাই না। অতীতে ফ্যাসিস্ট আমলে বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছিল এবং রায় লিখে এনে বিচারপতিদের তা অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার বিচার বিভাগে কোনো নির্দেশ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায় না। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে চলবে। কোনো অনিয়ম দেখলে আপনারা (সাংবাদিক সমাজ ) আওয়াজ তুলবেন, আমরাও সেটাই চাই।”
​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। এছাড়াও নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।