পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার বহুল বিতর্কিত সার্ভেয়ার আসাদুর রহমান আসাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি, ফাইল জিম্মি ও সীমাহীন ঘুষ বাণিজ্যের তথ্য বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে তার দুর্নীতির খতিয়ান ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শাস্তিমূলক বদলি এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে বারবার তিনি পটুয়াখালীর এলএ শাখাতেই ফিরে আসছেন, যা জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সূত্র ধরে সার্ভেয়ার আসাদের দুর্নীতির সব কয়টি অধ্যায় নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।পটুয়াখালী জেলায় পায়রা বন্দর ও ইপিজেড সহ সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই সার্ভেয়ার আসাদ নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জমি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সরকারি অনুদান বা এলএ চেকের টাকা ছাড় করাতে এই সিন্ডিকেটকে ১০-১৫% পর্যন্ত অগ্রিম ঘুষ দিতে হয়। একটি নামকরা আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন মৃধাসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এলএ শাখায় সার্ভেয়ার আসাদই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। তার দাবি করা নির্দিষ্ট অঙ্কের পার্সেন্টেজ বা ঘুষ না দিলে সাধারণ মানুষের ফাইল দিনের পর দিন আটকে রাখা এবং সার্ভেয়ার আসাদ শুধুমাত্র প্রকৃত মালিকদের হয়রানি করেই ক্ষান্ত হননি, বরং মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে জমির ভুয়া ও জাল দলিলধারী ব্যক্তিদের কোটি কোটি টাকার সরকারি অনুদান পাইয়ে দিয়েছেন। অন্যায্য উপায়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসাদ ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা এখন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে সংবাদে প্রকাশ পায়
সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী দল যখন এলএ শাখার এই অনিয়ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যায়, তখন সার্ভেয়ার আসাদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হয়ে বা সুনির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার কৌশল হিসেবে তার বিতর্কিত চায়ের দাওয়াত দেওয়ার ঘটনাটি সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে, যা প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক সমালোচিত হয় তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় তীব্র প্রতিবাদের মুখে তৎকালীন জেলা প্রশাসক তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করতে বাধ্য হয়। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংবাদ পর্যালোচনায় দেখা যায়, মির্জাগঞ্জ ভূমি অফিসে পদায়নের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই লবিংয়ের মাধ্যমে তিনি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি হতে সক্ষম হন।
সর্বশেষ কোন অদৃশ্য শক্তির বলয়ের কারণে এক বছর পার হতে না হতেই সমস্ত নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে রহস্যজনক প্রশাসনিক আদেশে তাকে পুনরায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তা নিয়ে খোদ প্রশাসনের অন্দরমহলেই কানাঘুষা চলছে।স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মতো আসাদও বদলি হয়ে অন্যত্র গেলেও পুরোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পটুয়াখালী এলএ শাখার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন। এখন পুনরায় তার সরাসরি প্রত্যাবর্তনে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সার্ভেয়ার আসাদের এই খোলামেলা বদলি-বাণিজ্য এবং ওপেন কমিশন সিস্টেম বন্ধে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।