চলতি আমন মৌসুমের শুরুতেই লালমনিরহাটে তীব্র সার সংকট ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সারের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুতের প্রতিবাদে লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা।
রোববার সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর বাফা গোডাউনের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরবর্তী সময়ে সুষ্ঠু সার সরবরাহ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
এর আগে গত ১০ আগস্ট একই দাবিতে জেলার কালীগঞ্জে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন কয়েক হাজার কৃষক।
কৃষি বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলায় সারের চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ অনেক কম। যেখানে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৬৮,৯৩২ মেট্রিক টন, সেখানে বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৯,৬৯০ টন। একইভাবে ৩০,২১০ টন টিএসপির চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ মিলেছে মাত্র ১২,৭০২ টন। ডিএপি ও এমওপি সারের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। মাঠপর্যায়ে বিশেষ করে টিএসপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে গেলে ‘স্টক শেষ’ বলা হলেও বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত ১,৩৫০ টাকা মূল্যের টিএসপি সারের বস্তা স্থানভেদে ১,৬০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বাড়তি টাকা নিলেও অনেক ক্ষেত্রে কৃষকদের ক্যাশ মেমো দেওয়া হচ্ছে না।
কৃষক রেজাউল আলম বলেন, “ডিলার ও ব্যবসায়ীরা সার নেই বলে ঘুরিয়ে দেন, কিন্তু বাড়তি টাকা দিলেই সেই সার ঠিকই মেলে। এতে আমাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।”
বিএডিসির লালমনিরহাট গুদামের সহকারী পরিচালক একরামুল হক জানান, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে এবং নির্ধারিত ১৪৪ জন ডিলারের মাধ্যমে নির্ধারিত দামেই সার দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ডিলারদের দাবি, বরাদ্দ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, তবে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে বাজার এবং ডিলার পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সারের বাড়তি দাম নেওয়া বা অবৈধ মজুতের প্রমাণ মিললে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, গত কয়েক বছর ধরেই জেলাটিতে আমন মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট দেখা দিচ্ছে। উপজেলাভিত্তিক সার চাহিদা, প্রকৃত বরাদ্দ ও বিক্রয়মূল্যের সরকারি তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না থাকায় আসল ঘাটতির মাত্রা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ফলন ব্যাহত হওয়া এবং উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন লালমনিরহাটের কৃষকরা।