নাগেশ্বরীতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাবা ও ছেলেকে পিটিয়ে জখম এবং বসতঘর তুলে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে নাগেশ্বরী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাগডাঙ্গা দক্ষিণ সরকারটারী এলাকার বাসিন্দা আবু সিদ্দিক (৬৫) বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন। এটি নাগেশ্বরী থানার ১৩ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের গোপালপুর মৌজায় অবস্থিত জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী অভিযুক্তদের সঙ্গে বাদীর পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ড এবং বিভিন্ন সময়ে কেনা দলিলের সূত্র ধরে ওই জমির বৈধ মালিকানা ও ভোগদখল নিজেদের দাবি করে আসছেন বাদী আবু সিদ্দিক। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
বাদীর অভিযোগ, গত ১৪ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিরোধীয় জমিতে প্রবেশ করে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে প্রায় ২৮ শতক জমি দখলের চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে আবু সিদ্দিক তাঁর ছেলে আমিনুল ইসলামকে (৩৫) সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাঁদের ওপর চড়াও হন।
এ সময় মজিবর রহমানের নির্দেশে আসামিরা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বাবা-জনকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুল ইসলামকে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। হামলায় মনির হোসেন ওরফে পনিরের লোহার রডের আঘাতে আমিনুলের ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে বাদী আদালতে পিটিশন মামলা (নম্বর-৪৫০/২৬ নাগ) এবং ১৪৪ ধারায় আবেদন করেন। আদালতের নোটিশ পাওয়ার পর আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুনরায় প্রায় ৩৩ শতক জমিতে ঘর তুলে দখলের চেষ্টা চালান এবং বাধা দিলে হত্যার হুমকি দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক প্রধান জানান, এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।