একসময় মাঠে বল পায়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল খেলেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন দলকে। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নিজেও গোল করেছেন। সেই মাঠের খেলোয়াড় জাহেদ পারভেজ চৌধুরী এখন দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক হিসেবে।
ফুটবলার থেকে প্রশাসক—জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর এই পথচলা একদিনের নয়। দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি নতুন দায়িত্বে এগিয়ে যাচ্ছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দেড় মাসের পথচলায় তিনি দেখছেন নতুন এক জগৎ। আর এই নতুন দায়িত্বকেই তিনি দেখছেন বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে।
জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, “সরকার ৯টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এনএসপির কাজ হচ্ছে বর্তমান সরকারের যে পরিকল্পনা আছে, সেটা বাস্তবায়নে কাজ করে যাওয়া।”
তিনি বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাজ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত খেলাধুলার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া। তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনাই অন্যতম লক্ষ্য।
জাহেদ পারভেজ বলেন,“বর্তমান সরকারের ৯টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। এ পরিকল্পনার সঙ্গে এনএসসির কিছু কাজ রয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা এবং গ্রাসরুট পর্যায়ে কাজ করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”
তিনি জানান, দেশের ৬৪ জেলা ও ৪৯৫ উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে এনে তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুধু ফুটবল বা ক্রিকেট নয়, দেশের অন্যান্য খেলাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব খেলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব খেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
তার ভাষায়, “শুধু ফুটবল-ক্রিকেট নয়, বাংলাদেশের যত ক্রীড়া ইভেন্ট আছে এবং যেগুলোতে আমাদের পদক জেতার সম্ভাবনা আছে, সেগুলোকে পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে। অলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমস কিংবা সাউথ এশিয়ান গেমসে ভালো করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।”
তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরিতে জোর
জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পেতে হলে শুধু বড় শহর বা নামী ক্লাবের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করতে হবে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, মাঠ ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা এখনই ফলাফলের পেছনে না ছুটে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও অবকাঠামো তৈরির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া এবং সেখান থেকেই ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরি করা।”
তিনি আরও বলেন, দেশে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করতে হলে সারা বছর মাঠগুলো সচল রাখতে হবে। খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পরিচর্যার জন্য কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন।
খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার গুরুত্ব
খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই পরিচালক। তাঁর মতে, একজন খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে।
জাহেদ পারভেজ বলেন, “খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। একজন মানুষের জীবনে খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজন আছে। নিজের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্যাশন ও দৃঢ়তা থাকতে হবে।”
দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন
খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন জাহেদ পারভেজ। বর্তমানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি যখন খেলোয়াড় ছিলাম, তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল দেশের জন্য কিছু করার। এখন সেই সুযোগ পেয়েছি। আমার ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটি যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছি।”
দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দায়িত্বটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের। তবে চ্যালেঞ্জ থাকলেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। আমি চাই আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য যতটা সম্ভব কাজ করতে।”
জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে হলে সরকার, ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ক্রীড়া কাঠামো গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
“দেশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এখন দেশের জন্য কাজ করার সময়। সুযোগ ও দায়িত্ব যতদিন থাকবে, ততদিন আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই” বলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরী।