বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রবাড়ি থানার দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ এ তথ্য জানান।

এদিন মামলার শুনানি শেষে এজলাস থেকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে আ স ম ফিরোজ বলেন, এক মামলায় দুই বছর সাজা খেটে জামিন পেলাম। এখন আবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো। বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের ক্ষমা চাওয়ার কোনো কারণ দেখছেন কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি চাইলে তো আর হবে না। যে ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য তিনি ক্ষমা চাইবে যদি প্রয়োজন মনে করেন। তবে আমি মনে করি এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

এদিন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার নাইম হাওলাদার হত্যা ও তারেক চৌকিদার হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে হাজির করা হয়। তাকে এসলাসে নেওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আ স ম ফিরোজের পক্ষে অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বিশ্বাস ও শফিকুল ইসলাম স্বপন গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘আমার বয়স ৭৮ বছর। দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আট বারের সংসদ সদস্য। আমি কোনো অন্যায়-অবিচার করিনি। কোনো অপরাধ করিনি। আমি অসুস্থ, আমাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক মামলায় জামিন পেলে, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।’ পরে আদালত তাকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ভাটারা থানার সোহাগ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। সম্প্রতি এই মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।