বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামের ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী রামপুরা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রায় ৭-৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মাদ্রাসাটিতে নিয়মিত পাঠদান না হলেও শিক্ষকরা বেতন বা সম্মানী পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আবদুল মালেক মিন্টু জানান, শিক্ষকরা মাসে সীমিত সময় প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে তাদের বেতন প্রদান করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক মোঃ আমজাদ হোসেন মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য শিক্ষকরা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে বেতন বা সম্মানী পান।

সভাপতি বলেন, বর্তমান সময়ের বিবেচনায় এই বেতন অত্যন্ত সামান্য। তারপরও একটি মাদ্রাসা যদি বছরের পর বছর বন্ধ থাকে এবং শিক্ষকরা বেতন পেতে থাকেন, তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক। শিক্ষকরা অন্তত প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা সময় দিয়ে পাঠদান শুরু করলে এলাকার শিশুরা কোরআন শিক্ষা ও প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে।

রামপুরা গ্রামের স্থানীয় শিক্ষক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক মোঃ আমজাদ হোসেন নিয়মিত মাদ্রাসায় এসে বসলে অন্যান্য শিক্ষকরা আবারও ক্লাস নেওয়া শুরু করবেন। ধীরে ধীরে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসাটির অবস্থা বেশ নাজুক। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য একটি বেঞ্চও নেই। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। মাদ্রাসাটি পুনরায় চালু করতে হলে সংস্কার এবং নতুন করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, এটি দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এই মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা করে অনেকেই পরবর্তীতে আলেম হয়েছেন। তাই প্রতিষ্ঠানটি এভাবে বন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকুক, তা তারা চান না।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং শিক্ষকরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করুন—এটাই তাদের প্রত্যাশা। প্রতিদিন অন্তত কয়েক ঘণ্টা ক্লাস শুরু করা হলে ধীরে ধীরে মাদ্রাসাটিকে আবারও সচল করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

মাদ্রাসার সংস্কার, বেঞ্চ-আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতেও এলাকাবাসী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণ এবং প্রধান শিক্ষক মোঃ আমজাদ হোসেন কেন নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসছেন না—এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

প্রধান শিক্ষকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এখন এলাকাবাসীর দাবি—দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রামপুরা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় দ্রুত পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হোক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করুক।