বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্রদের শহীদ শামসুল হক হলের বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ক্যাডারদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিসিএস ও ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে ‘ক্যারিয়ার সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) শামসুল হক হলের শহীদ শিবলী মিলনায়তনে হল ছাত্রদলের উদ্যোগে ক্যাডারদের সংবর্ধনা ও সেমিনার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মঞ্জুর খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম হাম্মদুর রহমান, প্রক্টর ড. মো আব্দুল আলীম। অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৃষিবিদ মো. আতিকুর রহমান। এছাড়া হলের বিভিন্ন বর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিসিএস পরীক্ষায় সফল ছয় ক্যাডারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে ক্যাডাররা বিসিএস প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা, পড়ালেখার কৌশল, সংগ্রাম ও অধ্যবসায়ের কথা তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

৪৬তম বিসিএসে লাইভস্টক ক্যাডার বিজয়ী আরমান হোসাইন সজীব, ক্যাডার নাম শুনলেই আমরা বুঝি একজন দিন রাত কষ্ট করে পড়াশোনার মধ্যে থাকে। তবে আমি এমন কেউ নই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক আমাকে অন্যভাবে চিনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট বড় সকল আন্দোলন সংগ্রামে উপস্থিত থেকেছি। তবে অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথা বলতে চাই, কবে বিসিএস পড়ালেখা শুরু করবেন সেটা একান্তই আপনার সিদ্ধান্ত। তবে যেদিন থেকে শুরু করবেন সেদিন থেকে ধারাবাহিকভাবে পড়ালেখা চালায় যাবেন। চালিয়ে যেতে হবে। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৃষিবিদ মো. আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংগঠন। মেধাবী ও মননশীল শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদল এগিয়ে চলেছে। বিসিএস পরীক্ষায় বিজয়ীদের নিয়ে এমন আয়োজন করে ব্যতিক্রমী দৃষ্ঠান স্থাপন করেছে। এতে হলের জুনিয়র শিক্ষার্থীরা হলের বড় ভাইদের অর্জনে অনুপ্রাণিত হবে। এক সময় তারাও স্বপ্নের বিসিএস জয় করবে। বাকৃবি ছাত্রদল সব সময় শিক্ষার্থীরা পাশে থেকে, একসাথে চলেছে।

হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মঞ্জুর খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর মধ্যে শামসুল হক হলে ভিন্নধর্মী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। ছাত্রদলের উদ্যোগে এমন আয়োজন প্রশংসার দাবি রাখে। এ হলের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত উজ্জ্বল। আমিও এই হলের ছাত্র ছিলাম। যারা এখনো ছাত্র আছো তোমরা ভালো লেখাপড়া করবে। লেখাপড়া করে বিসিএসসহ জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিবে। হলে প্রভোস্ট হিসেবে মেজর কিছু সমস্যাগুলো আইডেন্টিফাই করে সমাধানের চেস্টা করবো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান বলেন, এমন ধরনের আয়োজন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন প্রশংসার দাবি রাখে। বড় ভাইদের অর্জনে হলের অন্য ছাত্ররাও অনুপ্রেরণা লাভ করবে। যারা সামনে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে যোগ দেবে, তাদের উদ্দেশ্যে বলি প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশপ্রেম ভীষণভাবে প্রয়োজন। এবং দেশকে রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার পথে আমি শুভকামনা জানাই।