সিলেটের জৈন্তাপুরে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা কামাল আহমদ সহ স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিজিবির দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং খাসিয়া জনগোষ্ঠীর বাগান থেকে আনা পান-সুপারি আটকের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছেন যুবদল ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলা সদরে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সড়ক অবরোধ থাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের উভয় পাশে শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন আটকা পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শ্রীপুর মোকামপুঞ্জি খাসিয়া পল্লীর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাগান থেকে আনা বৈধ পান-সুপারি রাজবাড়ী বিওপির বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে রাস্তায় আটক করে হয়রানি করছেন। একই সঙ্গে সাবেক স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা কামাল আহমদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে তারা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

অবরোধের খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মুহিবুল হক মুহিব, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন এবং চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তৌফায়েলসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন। পরে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে আন্দোলনকারীরা বিজিবির বিভিন্ন সময়ে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর বাগান থেকে আনা পান-সুপারি আটক করে হয়রানি বন্ধ এবং কামাল আহমদসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তবে পান-সুপারি আটকের বিষয়ে ১৯ বিজিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে, শুক্রবার রাতে আটক করা পানগুলো অবৈধ ছিল। বিজিবি সদস্যরা পান আটক করার সময় এর মালিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলেও সূত্রটি জানায়।