ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে মো. আল আমিন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর থানার ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আল আমিন রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। র‌্যাব-১৩ রংপুরের সদর কোম্পানি ও র‌্যাব-১-এর সিপিএসসি, গাজীপুরের সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করেন।

র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ভুক্তভোগী নারী তার বাবার বাড়িতে গোসল করছিলেন। এ সময় মামলার অপর আসামি জনি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ওই নারী বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় সেখানে থাকা আল আমিন তাকে গলা ধরে আবার বাথরুমের ভেতরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ওই সময় জনি ভুক্তভোগীর ভিডিও ধারণ করেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন। পরে আল আমিনও তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাবের তথ্যমতে, ঘটনার ভিডিও ধারণের পর অভিযুক্তরা সেটি সংরক্ষণ করে এবং বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করে। পরে ভিডিওটি দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইল করার পাশাপাশি তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট মাহবুব আলম নামে মামলার অপর এক আসামি ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানান। পরে গত ২০ আগস্ট রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন তিনি। মামলাটির নম্বর ২৮।

মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। তাদের অবস্থান শনাক্তে র‌্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আল আমিনের গাজীপুরে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এরপর শুক্রবার রাতে ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আল আমিনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।