বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। গত দুই-তিন মাসে ভারতের গুজরাট থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ আসার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের মাছ ব্যবসায়ীরা ভারতের গুজরাটের ভারুচ বন্দর এবং হাওড়ার পাইকারি মাছবাজার থেকে এসব ইলিশ আমদানি করেছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসের ইনস্পেক্টর আহসাদুল আলম ইলিশ আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমদানিকারকেরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অন্যান্য মাছের পাশাপাশি ইলিশও আমদানি করছেন। তবে মোট কত পরিমাণ ইলিশ আমদানি হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির তথ্য জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া হোলসেল ফিশ মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন ও ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণত এপার বাংলা থেকে বোয়াল, রুই, পারশে ও টেংরাসহ বিভিন্ন মাছ ওপার বাংলায় পাঠাই। তবে এবার বাংলাদেশে ইলিশের ঘাটতি থাকায় প্রথমবার এখান থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হলো।’

তিনি জানান, বাংলাদেশে ডিমভর্তি ইলিশের চাহিদা বেশি। গুজরাটের ইলিশে ডিম বেশি থাকায় স্থানীয় বাজারে এই মাছের চাহিদাও বেশি। ওই মাছের ডিম সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।

সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে ইলিশ প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহ ভালো থাকলে দাম ৩০০ থেকে ৪০০ রুপিতে নেমে আসে। বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে পরিবহন খরচ বাদে গড়ে প্রতি কেজি ৬০০ রুপিতে ইলিশ বিক্রি করা হয়েছে।

পূজার আগে ইলিশ নিয়ে নতুন সমীকরণ

সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ সরকারও বিভিন্ন সময়ে কলকাতায় পূজার উপহার হিসেবে ইলিশ পাঠিয়েছে।

এবার বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ায় ভারতের মাছ ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাংলাদেশের মৎস্য বিভাগের কাছে ইলিশ আমদানির জন্য আবেদন করেছেন বলে জানান তিনি।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে স্বল্পমেয়াদি অনুমতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একই সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে।

ভারতীয় আমদানিকারকদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার যে পরিমাণ ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে, বাস্তবে তার তুলনায় অনেক কম মাছ ভারতে পৌঁছেছে। ২০১৯ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছরই অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় প্রকৃত রপ্তানি কম ছিল।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন থাকলেও ভারতে গেছে মাত্র ১৫০ টন। আর ২০২৫ সালের হিসাবে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে পৌঁছায় ৫৭৭ টন।