অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগ বন্ধ করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ‘ভিসা হপার’ ও ব্যাকপ্যাকারদের জন্যও ভিসার নিয়মে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নতুন এসব নিয়ম ঘোষণা করেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসতে পারেন, এমন ব্যবস্থা আর রাখা হবে না।
তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় থাকবে। পিএইচডি শিক্ষার্থীরা পরিবারকে সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বার্ক বলেন, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিএইচডি শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি ভিন্ন।
নতুন নীতির আওতায় ‘ভিসা হপিং’ বা একটি কোর্স শেষ করে তুলনামূলক নিম্নমানের বা নিম্নতর যোগ্যতার আরেকটি কোর্সে ভর্তি হয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে স্নাতক শেষে মাস্টার্স বা অন্য কোনো উচ্চতর শিক্ষায় যাওয়ার ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
সরকারের লক্ষ্য, ২০২৮ সালের মধ্যে নিট অভিবাসনের সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের হিসাবে, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ১২ মাসে দেশটির জনসংখ্যা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৭৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। ওই সময়ে নিট অভিবাসনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০।
এদিকে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। দ্বিতীয় বছরের ভিসার জন্য যোগ্যদের ব্যালট বা লটারির মাধ্যমে বাছাই করা হবে এবং সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার জনকে সুযোগ দেওয়া হবে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার।
তৃতীয় বছরের ভিসার সুযোগও কমিয়ে ৫ হাজার করা হয়েছে। গত বছর তৃতীয় বছরের ভিসার জন্য ৩১ হাজার মানুষ যোগ্য হয়েছিলেন। তবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ব্রিটিশ নাগরিকরা এসব পরিবর্তনের আওতায় পড়বেন না।
বার্ক বলেন, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি শক্তি হলেও এর ওপর উচ্চ মাত্রার নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রা ও আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবার ওপর চাপের কারণে অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। দেশটির রাজনীতিতেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ‘ওয়ান নেশন’ সম্প্রতি তিন বছরের মধ্যে অস্থায়ী অভিবাসী ভিসার সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। দলটি নিট বৈদেশিক অভিবাসন ১ লাখ ৩০ হাজারে সীমাবদ্ধ রাখারও প্রস্তাব করেছে। তবে বার্কের মতে, এমন পদক্ষেপ অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির কিছু অংশকে ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
এর আগে জুলাইয়ে সরকার বিদেশ থেকে করা আবেদনের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের পারিবারিক ভিসার আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি চালু করে। একইভাবে দেশটিতে বসবাসরত দক্ষ অভিবাসীদের স্থায়ী ভিসার আবেদনকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংস্থা সেটেলমেন্ট সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনালের ভায়োলেট রুমেলিওটিস বলেন, অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্কটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের চেয়ে স্বল্পমেয়াদি রাজনীতির দ্বারা বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের ভিসা-সংক্রান্ত পরিবর্তন ভবিষ্যতে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে কঠিন করে তুলতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।