চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে কৌশলে রিকশায় তুলে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই শিশুর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া দিয়ে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে এক নারী ও রিকশাচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটিয়া পৌরসভার কাগজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের আবুল ফয়েজের ছেলে রিকশাচালক মো. ফারুক (৪২) এবং উখিয়ার কুতুপালং এলাকার জামাল হোসেনের মেয়ে শাহাজাহান বেগম (৪০)। শাহজাহান বেগম বর্তমানে পটিয়া বাদামতল এলাকার এক ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, পটিয়া সদরের ‘আশরাফ আলী একাডেমি’র তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে সালমা ইকরা ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল। কাগজীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত নারী ও রিকশাচালক তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে রিকশায় তোলে।
তবে রিকশাটি শিশুটির বাড়ির সামনে না থামিয়ে দ্রুত অন্য রাস্তার দিকে নিয়ে যেতে থাকে। এ সময় বিষয়টি বুঝতে পেরে শিশু ইকরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের উৎসুক জনতা ও প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে এসে ধাওয়া করে রিকশাসহ ওই নারী ও চালককে ধরে ফেলে।
শিশুটির বাবা প্রবাসী শাহনেওয়াজ মামুন আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমার নিষ্পাপ মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে না এলে আজ হয়তো তাকে আর পেতাম না। আমি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মামুনুর রশিদ মামুন নামে এক ব্যাক্তি বলেন, “এলাকায় একের পর এক ছেলেধরা ও শিশু চুরির গুজবে অভিভাবকরা এমনিতেই আতঙ্কে আছেন। এমন মুহূর্তে প্রত্যক্ষভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আমরা অভিযুক্তদের উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছি এবং প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছি।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, “বাড়ির সামনে না নামিয়ে শিশুকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে স্থানীয় জনতা এক নারী ও রিকশাচালককে থানায় নিয়ে এসেছে। ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে অপহরণ চেষ্টা নাকি অন্য কোনো বিষয়, তা গভীর তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”