মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রথম স্ত্রী রাজনা বেগমকে (৫০) নির্যাতন ও জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত স্বামী আনোয়ার মিয়া ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া দুই আসামিকে প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের কমলগঞ্জ থানায় আনা হয় এবং বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার মিয়া সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তানের খোঁজ না রেখে কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরার পর পারিবারিক বিরোধ আরও তীব্র হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দ্বিতীয় স্ত্রীর প্ররোচনায় আনোয়ার মিয়া তার প্রথম স্ত্রী রাজনা বেগমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। ঘটনার দিন ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে তাকে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর রাজনা বেগমের মুখে জোরপূর্বক বিষ ঢেলে দিয়ে ঘটনাটিকে বিষপানজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজনা বেগমকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর আনোয়ার মিয়া ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মা হারিয়ে এবং বাবা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ায় নিহতের চার কন্যাসন্তান চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বড় মেয়ে বিবাহিত হলেও মেজ ও সেজ মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত এবং ছোট মেয়েটির বয়স মাত্র ৮ বছর।
পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে আনোয়ার মিয়া ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।