রাজশাহীর তানোরে ‘ফেমাস’ ও ‘দিশা’ নামক দুটি এনজিওর পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করার জেরে হামলার শিকার হয়েছেন এক অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মচারী। আহত কর্মচারীর নাম পলাশ আহমেদ (২৫)। তিনি তানোর উপজেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমানে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর মাথায় ৫টি সেলাই দিতে হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় তানোর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির বাদী হয়েছেন আহত পলাশ আহমেদের পিতা এবং তানোর উপজেলার প্রাণপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ (৫৪)।

মামলার আসামিরা হলেন- ফেমাস এনজিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দিশার নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আলম (৪০), ফেমাসের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন (৩৫), ফেমাসের অর্থ পরিচালক ও দিশা এনজিওর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান (৪২), ফেমাসের কোষাধ্যক্ষ আফসার আলী (৬৫), দিশার সমন্বয়কারী আনোয়ার হোসেন (৩৫), দিশার সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক হাবিব আলী (২৬) এবং দিশা এনজিওর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আপেল মাহমুদ (৪৮)। তাদের বাড়ি তানোর উপজেলার প্রানপুর, জুমারপাড়া, কামারগাঁ এবং নওগাঁ সদর ও নিয়ামতপুর থানার আদমপুর গ্রামে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেমাস ও দিশা এনজিওর অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মচারী পলাশ আহমেদের বিরোধ চলছিল। এর জেরে পলাশ আহমেদ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৯টার দিকে শ্বশুরবাড়ি তানোর উপজেলার পাঁচন্দর থানতালা গ্রামে মোটর সাইকেলে যাবার পথে বিবাদীরা পলাশ আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ও তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েভর্তি করেন। এঘটনায় আহত পলাশের মাথায় ৫টি সেলাই দিতে হয়।

এনিয়ে তানোর উপজেলার প্রানপুর গ্রামের নাগরিক ‘ফেমাস এনজিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দিশা এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, আমি বর্তমানে রাজশাহী নগরীতে থাকি। গতকাল শুক্রবার গোকুল গ্রামে ছিলাম। পলাশ আহমেদের ওপর হামলার ব্যাপারে শুনেছি। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে তিনি ও মামলার এজাহারে অভিযুক্তরা কেউ জড়িত নয় বলে এড়িয়ে গেছেন।

এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সার্বিক তদন্ত সাপেক্ষে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।