দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৯ নেতার ফাঁসির রায় প্রত্যাখ্যান করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে আইসিটি ট্রাইব্যুনাল বাতিল, দলীয় কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরেছে দলটি।
গত শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এসব দাবি জানানো হয়। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এটিই ছিল আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম বৈঠক। এ বৈঠকটি ভারতের নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার আবাসস্থলে হওয়ার কথা থাকলেও পরে ভার্চুয়ালি হয়েছে। দলটির ভেরিফায়েড অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে গতকাল শনিবার প্রচারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশে বিদ্যমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তরণ, তেল-গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অর্থনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সভার প্রস্তাবে দ্রব্যমূল্য কমানো, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সরবরাহ নিশ্চিত, বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, রাজবন্দিদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে বিদ্যমান অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে দেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
দলের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং প্রমুখ।