বান্দরবানের আলীকদমের মাতামুহুরী রিজার্ভে নিষিদ্ধ সময়ে বাঁশ কর্তন ও নদীপথে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জুন, জুলাই ও আগস্ট তিনমাস বাঁশ আহরণের নিষিদ্ধ সময়ে রিজার্ভ এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বাঁশ কেটে মাতামুহুরী নদীপথে পাচার করা হয়েছে।
পরে আলীকদম সেনা জোনের একটি ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা প্রায় ৯ হাজার বাঁশ জব্দ করে বন বিভাগের তৈন রেঞ্জের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, সদ্য বদলীকৃত মাতামুহুরী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মালেকের যোগসাজশে নিষিদ্ধ সময়ে রিজার্ভ এলাকা থেকে হাজার হাজার বাঁশ কেটে পাচার করা হয়েছে। এ কাজে চকরিয়ার বাঁশ ব্যবসায়ী জসিম, পুতুসহ একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ। বাঁশ পাচারে মাতামুহুরী রেঞ্জের বাবু পাড়া চেকপোস্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, জুন, জুলাই ও আগস্ট নিষিদ্ধ সময়ে এসব বাঁশ কাটা হয়েছে। পরে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বাঁশগুলো নদীপথে পাচার করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মাতামুহুরী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ‘কিছু বাঁশ অবৈধভাবে নদীতে মজুত রয়েছে। সেইসব বাঁশ আমরা জব্দ করব।’
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি রেঞ্জ কর্মকর্তাকে মজুত বাঁশ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের পক্ষ থেকে জব্দের নির্দেশ দেওয়ার পরও মজুত বাঁশের একটি অংশ নদীপথে পাচার হয়ে যায়। পরে আলীকদম সেনা জোনের কানা মার্ঝি আর্মি ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা প্রায় ৯ হাজার বাঁশ জব্দ করে তৈন রেঞ্জের কাছে হস্তান্তর করেন।
জব্দ করা বাঁশের বিষয়ে তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুল হক বলেন, বাঁশগুলো জব্দ করা হয়েছে। রেঞ্জের পক্ষ থেকে সেগুলো হোসেন সর্দারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে বাঁশ আহরণের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তার প্রশ্ন, বন বিভাগের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময়ে যদি রিজার্ভ থেকে বাঁশ কাটা হয়ে থাকে, তাহলে কারা এর অনুমতি দিয়েছে এবং বন বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নজর এড়িয়ে এত বিপুল পরিমাণ বাঁশ কীভাবে নদীপথে সরানো হলো?