সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংসদ সদস্য ভবনের (ন্যাম ভবন) একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের দোতলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি পুলিশের একটি দল নিয়ে ন্যাম ভবনে যান।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। আলামত সংগ্রহের জন্য পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। তারা ঘটনাস্থলে না আসা পর্যন্ত থানা পুলিশ ওই কক্ষে প্রবেশ করেনি।

ভিডিও ছড়িয়ে আলোচনায়

গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুন ও গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়েন নজরুল ইসলাম।

তখন তিনি দাবি করেন, মরিয়ম তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাকে বিয়ে করেছেন। তবে পরে তার প্রথম স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে জানতেন না বলে তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়।

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।