সরকার ঘোষিত নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রির সময়সীমা কার্যকর হওয়ার আগেই পুরোনো মজুদের তেল বাড়তি দামে বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের অবস্থিত স্টেশনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় গ্রাহক ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে মন এনার্জি স্টেশনে, বালিয়াডাঙ্গী আলী ফিলিং স্টেশন তেল নিতে প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেল অপেক্ষা করছিল। এ সময় পাম্পের ম্যানেজার তাপস দাস ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কথা বলে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখেন। একই সময়ে পাম্পের মেশিনে নতুন মূল্য নির্ধারণের কাজ করা হয়।

প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ১২টা বাজলে নতুন নির্ধারিত দামে তেল বিক্রির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত গ্রাহকরা।

সেখানে থাকা মোটরসাইকেল চালক নাসিরুল ও সবুজ বলেন, নতুন মূল্য পরদিন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা শুনে তারা পুরোনো দামে তেল নিতে এসেছিলেন। কিন্তু পাম্প কর্তৃপক্ষ আগে কেনা তেল কেন বাড়তি দামে বিক্রি করতে চাইছে, তা তাদের কাছে পরিষ্কার নয়।

আরো একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, হুট করে তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ায় দিল এটা মেনে নেওয়া যায় না, ৫ টাকা ১০ টাকা এটা স্বাভাবিক।।

গ্রাহকদের এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে পাম্প ম্যানেজারের বিরুদ্ধে।

পরদিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, নতুন দামে জ্বালানি বিক্রির সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময় কর্মকর্তারা আগের মজুদের জ্বালানি পূর্বনির্ধারিত দামেই বিক্রির পরামর্শ দেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। ফলে গিন্নিদেবী আগরওয়াল মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক নুরুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন গ্রাহক তেল না পেয়েই ফিরে যান।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি এখনই দেখছি।”

এদিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজন খোর ইউনিয়নেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অনুমোদিত সময় আসার আগেই পুরোনো মজুদের তেল বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকার অভিযোগও করেছেন তারা।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পাম্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।