আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সংহতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমেও শান্তির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ রয়েছে।

আলীকদমের মতো পাহাড়ি জনপদে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থান সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের কর্মসূচিতে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে সহনশীলতা ও সামাজিক সংহতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সংহতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে বান্দরবানের আলীকদমে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শান্তি র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর বসবাস ও দুর্গম ভৌগোলিক বাস্তবতার আলীকদমে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

‘Invest in Peace – For Everyone, Everywhere, Every Day’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আলীকদম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। European Union (EU)-এর অর্থায়নে Ecosystems Restoration and Resilient Development in the CHT (UNDP) প্রকল্পের উদ্যোগে কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহেদ পারভেজ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান উপজেলা কোঅর্ডিনেটর অংসিং প্রু মার্মা এবং UNDP বান্দরবান পার্বত্য জেলার Upazila Facilitation/Field Assistant মো. শামিউল আলম।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন অংশ নেন। শান্তির পক্ষে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত র‍্যালির পর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা, সামাজিক সংহতি ও সম্প্রীতির কোনো বিকল্প নেই। সমাজের একটি অংশের শান্তি অন্য অংশের নিরাপত্তা ও স্বস্তি ছাড়া টেকসই হতে পারে না। তাই স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দায়িত্বশীল ও সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু একটি দিবস পালন বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়। মানুষের প্রতিদিনের আচরণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সহযোগিতা এবং ভিন্নমত ও ভিন্ন পরিচয়ের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়েই শান্তির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এ কারণে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।