রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তাদের একটি বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন চিহ্নিত ও পেশাদার মাদক কারবারি শীলা রানি। বুধবার রাতে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেট।
ধাওয়ায় ধরা ‘মাদক সম্রাগ্রী’
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি চৌকস টিম জানতে পারে— খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ এলাকার ১৫ নম্বর রোডের মাথায় (জোয়ার সাহারা অংশ) এক নারী মোটা অংকের মাদকের চালান হাতবদলের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। খবর পাওয়া মাত্রই সিটিটিসির বিশেষ টিম সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায়। স্থানটি ঘেরাও করে ফেলে পুলিশ এবং সন্দেহভাজন হিসেবে শীলা রানিকে আটক করা হয়।
পরে নারী পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি চালানো হলে বের হয়ে আসে ৫১ গ্রাম কথিত উচ্চমাত্রার হেরোইন এবং ৫০ পিস গোলাপি রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট। উদ্ধারকৃত এই মাদক চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য লাখ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে রাজত্ব
সিটিটিসির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, শীলা রানি কোনো সাধারণ খুচরা বিক্রেতা নন; তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত ও সাধারণ এলাকায় মাদকের নেটওয়ার্ক চালিয়ে আসছিলেন। তাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই চক্রের একটি শক্তিশালী যোগসূত্র ছিন্ন হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনি ব্যবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এ বিষয়ে সিটিটিসির সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত শীলা রানির বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত এবং কার মাধ্যমে এই মাদকের চালান রাজধানীতে আসছে— তা উদঘাটনে আইনি প্রক্রিয়া ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। মাদক সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।