আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটনের গুরুত্ব, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়। পর্যটন শুধু ভ্রমণ কিংবা বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়, নদী, সমুদ্র, বনাঞ্চল ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় সমৃদ্ধ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। এ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। সঠিক পরিকল্পনা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে পর্যটনশিল্প হয়ে উঠতে পারে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

পর্যটনের হাত ধরে বদলে যেতে পারে গ্রামীণ অর্থনীতি

পর্যটনশিল্পের বিকাশের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজারো মানুষের জীবিকা। পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে গড়ে ওঠে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসা। সৃষ্টি হয় স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ। বিশেষ করে তরুণ সমাজের জন্য পর্যটন হতে পারে আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন দিগন্ত।

তবে পর্যটনের উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা, স্থানীয় সংস্কৃতির মর্যাদা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

শেরপুরের গারো পাহাড়: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়, গজনী অবকাশ এবং সীমান্তবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এলাকাগুলো পর্যটনের এক অপার সম্ভাবনার নাম। পাহাড়ের সবুজ বনভূমি, আঁকাবাঁকা পথ, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এ অঞ্চলকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়।

পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন, যাতায়াতব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ পর্যটন এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ঝিনাইগাতী হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

এ অঞ্চলে পর্যটনের বিকাশ ঘটলে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

পর্যটন হোক সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের সেতুবন্ধন

বিশ্ব পর্যটন দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পর্যটন কেবল একটি ভ্রমণ নয়; এটি মানুষে মানুষে সম্পর্ক গড়ে তোলা, ভিন্ন সংস্কৃতিকে জানার সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার একটি মাধ্যম।

বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।

বিশ্ব পর্যটন দিবসে আমাদের প্রত্যাশা—বাংলাদেশের প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠুক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন ঠিকানা। শেরপুরের গারো পাহাড়সহ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষিত থাকুক আগামী প্রজন্মের জন্য। পর্যটনের হাত ধরে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ, গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনশিল্প।