দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন হাজী মোহাম্মদ হোসাইন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাকে এ পদে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র ও হাজী মোহাম্মদ হোসাইনের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০১ সালে যাত্রাবাড়ীর ৫০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের শুরু। পরবর্তীতে তিনি ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে তিনি যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।

তার সমর্থকদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক হয়রানি ও মামলার কারণে তাকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। ২০১৮ সালে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ছয় মাস কারাভোগ করেন বলেও তারা জানান। এছাড়া ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তার ঘনিষ্ঠরা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আর্থিক সংকটে পড়ার পর জীবিকা নির্বাহের জন্য যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে সবজি বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন হাজী মোহাম্মদ হোসাইন। বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি সবজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

হাজী মোহাম্মদ হোসাইনের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, মামলা-হামলা ও কারাভোগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্ব তাকে সাংগঠনিকভাবে মূল্যায়ন করবে। পাশাপাশি দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা অবৈধ আয়ের সঙ্গে জড়িত না থেকে তিনি দলীয় নির্দেশনা অনুসরণ করে চলেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে তিনি ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারেননি এবং অনেক সময় তাকে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। বর্তমানে দল ক্ষমতায় থাকলেও দলের প্রভাব দেখিয়ে তাকে চাঁদাবাজি বা দখলবাজির সঙ্গে জড়িত হতে দেখিনি। আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের কাছে এমন নেতারাই প্রত্যাশিত।”
এদিকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক ভূমিকা ও দুঃসময়ে দলের সঙ্গে থাকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তবে যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে শেষ পর্যন্ত কে দায়িত্ব পাবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষ।