ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় পানির পাম্প চুরির সময় দেখে ফেলায় বা বাধা দেওয়ায় বিন্দুমতি (৭৫) নামে এক বৃদ্ধাকে মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতনামা চোরচক্রের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতের কোনো একসময় রুহিয়া উপজেলার ৩ নম্বর রাজাগাঁও ইউনিয়নের চাপাতি দুর্গা মন্দিরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বিন্দুমতি ওই গ্রামের মৃত অলিন সরকারের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে চোরেরা রঞ্জন সরকারের বাড়িতে পানির পাম্প চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। ওই সময় বিন্দুমতি ঘুম থেকে উঠে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ঘরের দক্ষিণ পাশের গলি দিয়ে বাথরুমের দিকে যাচ্ছিলেন।

এ সময় চোরেরা তাকে দেখে ফেললে পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার মাথায় সজোরে আঘাত করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। গুরুতর আহত হয়ে গলির মধ্যে পড়ে যান তিনি। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

রাত আনুমানিক ১২টার দিকে স্থানীয় বৈরাগীরহাটে নিজের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন রঞ্জন সরকার। বাড়িতে ঢোকার পর তার স্ত্রী দিপালী রানী বাথরুমে যাওয়ার সময় গলির মধ্যে শাশুড়ি বিন্দুমতিকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে রঞ্জন ছুটে এসে দুজন মিলে তাকে বারান্দায় নিয়ে যান।

বৃদ্ধার কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মাথায় হাত দিয়ে জমাট বাঁধা রক্ত দেখতে পান। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরীক্ষা করে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

পরিবারের সদস্যরা পরে বাড়ির বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে দেখতে পান, নিহতের ছেলে গোলাপ সরকার, মিলাল সরকার ও রঞ্জন সরকারের বসতবাড়ির পানির পাম্প চুরি হয়ে গেছে।

খবর পেয়ে রুহিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

রুহিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।