হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প তৃতীয়বারের মতো সংশোধন করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় নতুন করে ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেড়ে মোট ২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এদিন একনেকে মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচটি সংশোধিত এবং আটটি নতুন প্রকল্প। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ ৫ হাজার ২৫৩ কোটি এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি টাকা। এ ছাড়া তিনটি প্রকল্প ফেরত দিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাত বছরে ব্যয় বেড়েছে ৮ হাজার কোটি

২০১৬ সালে শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। ওই বছরের জুনে কাজ শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্পের মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। একই সঙ্গে ব্যয় বাড়ানো হয় ৮৪৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এবার তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় আরও ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেড়ে মোট ২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকা হয়েছে। অর্থাৎ মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।

প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন থাকছে ৫ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। বাকি ১৭ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে জাপান সরকারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে নতুন নীতিমালা

একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দুর্বলতার কারণে অনেক সময় বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বেড়ে যায়। তাই সম্ভাব্যতা যাচাই আরও যথাযথভাবে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করে সময় ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্প

শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যক্ষ্মা, এইডস ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (প্রথম সংশোধন) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২) প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের রৌফাবাদে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

পানি মন্ত্রণালয়ের মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে তিনটি সিটি করপোরেশন, একটি পৌরসভা ও দুটি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ, মাদারীপুর-শরীয়তপুর-রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধন), র‍্যাবের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি (দ্বিতীয় সংশোধিত), ফেনীর সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ এবং তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।