ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহের প্রভাবে চলতি বছর সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো দ্রুত গলছে। দেশটির হিমবাহগুলোর ৫ শতাংশের বেশি বরফ এ বছরই গলে গেছে। ফলে দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে বরফে ঢাকা এসব পর্বতাঞ্চল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক (গ্ল্যামোস) এবং সুইস একাডেমি অব সায়েন্সেসের সুইস কমিশন ফর ক্রায়োস্ফিয়ার অবজারভেশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বরফ হারিয়েছে। অতিরিক্ত বরফ গলার ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এতে ভবিষ্যতে পানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং ইউরোপের বরফে ঢাকা অঞ্চলগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গ্ল্যামোসের পরিচালক ম্যাথিয়াস হাস বলেন, ‘আমরা এখন এমন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছি, যেখানে বরফ গলে হিমবাহগুলো চোখের সামনে মিলিয়ে যাচ্ছে।’
তাঁর মতে, শীতকালে তুলনামূলক কম তুষারপাত এবং গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে চলতি বছর হিমবাহের বরফ গলার হার ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে ২০২২ সালের মতো রেকর্ড মাত্রায় এবার বরফ গলেনি বলেও জানান হাস। ওই বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ধুলোর মেঘ তুষারের ওপর জমে যাওয়ায় বরফ গলার হার নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
চলতি বছর সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হিমবাহ আলেৎশ সবচেয়ে বেশি বরফ হারিয়েছে। অন্যদিকে গ্লেসিয়ার দ্য সঁফ্লেরঁ হিমবাহের গড় পুরুত্ব চার মিটারের বেশি কমেছে। কয়েক বছর আগেও এমন পরিবর্তন কল্পনা করা কঠিন ছিল বলে জানান হাস।
গবেষকদের হিসাবে, শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি হারিয়েছে। দেশটির পরিবারগুলো এক বছরে যে পরিমাণ খাবার পানি ব্যবহার করে, এটি তার চারগুণেরও বেশি।
হিমবাহ গলে যাওয়ার একটি সাময়িক ইতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। গ্রীষ্মকালে পানির ঘাটতি কিছুটা কমাতে গলিত বরফ ভূমিকা রাখে। তবে হিমবাহের আয়তন ও বরফে ঢাকা এলাকার পরিমাণ কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই সুবিধাও ক্রমেই কমে আসবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
ম্যাথিয়াস হাস বলেন, ‘হিমবাহ কত দ্রুত গলছে, তা আমরা জানি। তাই এতে আমরা অবাক হই না। কিন্তু পাহাড়ের যেসব জায়গায় আগে তুষার ছিল, সেখানে এখন শুধু পাথর দেখা যাচ্ছে। এটা আমাকে কষ্ট দেয়।’
সূত্র: রয়টার্স