নীলফামারী জলঢাকায় খাতিজা আক্তার (৬) নামের এক শিশুর মৃত দেহ পুকুর থেকে উত্তোলনের পর মৃতের লাশ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। শিশুটির পিতার পরিবারের লোকজনের দাবী অপমৃত্যু এবং মাতার পরিবারের লোকজনের দাবী পুকুরে পরে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
৩০শে সেপ্টেম্বর বুধবার উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড নালার পাড় গ্রামের এনামুল হক (৫৫) নামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহের আলীর ছেলে ফেরদৌস আলম (১৮) জানান, বেলা সোয়া ১১টার দিকে দেখতে পাই মৃত্যু শিশুটির মা রেজিনা বেগম (২৮) কাঁন্না করতে করতে মেয়েকে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করছে। বাড়ির আশপাশে খুঁজে না পাওয়ায় স্থানীয় লোকজনের কথামত আমি ও রিপন পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি করি এবং ১৫/২০ মিনিটের মধ্যে শিশুটির মৃত্যু দেহ পুকুর থেকে উত্তোলন করি। স্থানীয় বাহারাম উদ্দীন (৫২) বলেন, শিশুটির মৃত্যুদেহ পুকুর হতে উত্তোলনের সময় আমরা উপস্থিত ছিলাম এবং উত্তোলনের পর শিশুটির পেট হইতে পানি বের করার চেষ্টা করলে দেখা যায় শিশুটি আগেই মারা গেছে। অন্যদিকে মৃত্যু মেয়েটির বাবা বাড়িতে উপস্থিতি না থাকলেও তার পরিবারবর্গের দাবী দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ ও মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃতের মা রেজিনা বেগম প্রায় মাস খানেক হইতে তার পিত্রালয়ে বসবাস করছেন এবং এ ঘটনা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থানায় হওয়ায় পরিকল্পিত ভাবে শিশু খাতিজা আক্তারকে মেরে পুকুরে লাশ ফেলে দিয়ে পুকুরে পরে মৃত্যু হয়েছে মর্মে মেয়ে পরিবারের লোকজন কৌশলগত ভাবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে । এমন অপমৃত্যুর অভিযোগ মৃত শিশুটির চাচা থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক মৃত্যের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে মৃত্যু শিশুটির চাচা নজরুল ইসলাম (৩৮) অভিযোগ করে বলেন, আমরা নিশ্চিত এটি অপমৃত্যু। আমাদের পরিবারের সদস্যদের ফাঁসানোর জন্য রেজিনা বেগম ও তার পরিবারের লোকজন শিশু সন্তানটিকে মেরে পুকুরে লাশ ফেলে দিয়েছে। আমরা আইনের নিকট এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানাচ্ছি। শিশুটির মা রেজিনা বেগম জানান, আমি জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়েছিলাম। বাড়িতে এসে দেখতে পাই মেয়ে নাই। এ সময় বাড়ির চারপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। খুঁজে না পেলে স্থানীয় লোকজনের কথামত পুকুরে খোঁজ করলে আমার মেয়ের মৃত্যুদেহ উদ্ধার হয়। এ বিষয়ে থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, আমরা শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসছি। লাশের সুরতাহাল রিপোর্ট প্রস্তূত করা হয়েছে। অপমৃত্যু মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন আছে। মৃত্যু শিশুটির পিতা ঢাকা থেকে আসতেছে। পিতার বক্তব্য শুনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।