সরকার দেশে ডেঙ্গুর টিকা চালুর কথা ভাবছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএস-১ র‍্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘স্ট্রাইডস’ কার্যক্রমের আওতায় এই চিকিৎসা সরঞ্জাম অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তৃষিতা মওলা এসব কিট স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

ডেঙ্গুর টিকা চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‌‘ভ্যাকসিনটির ব্যয় বেশি হওয়ায় সেটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বর্তমান নির্দেশনায় ডেঙ্গুর জন্য কিউডেঙ্গা ভ্যাকসিন উচ্চ সংক্রমণের এলাকায় ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। দুই ডোজের এ টিকার মধ্যে অন্তত তিন মাসের ব্যবধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণ, রোগীর যথাযথ চিকিৎসা এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ইতোমধ্যে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। চলতি বছর ৮১ হাজার ৫৯৮ জন মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন পাওয়া কিটের পাশাপাশি সরকারি খাতেও পর্যাপ্ত ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন কিট ও আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে। ফলে দেশের যেকোনো অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।