ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ছয় গোল হজম করা হামজা চৌধুরীর দল দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিন গোল খেয়ে শেষ পর্যন্ত ৯-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।
জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে ইন্দোনেশিয়া। ১১ মিনিটে মিচেল বেকারের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ২০ মিনিটে আবারও গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেকার। ৩১ মিনিটে রিজকি রিদোর গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০।
৩৬ মিনিটে বাংলাদেশের হয়ে একটি গোল শোধ করেন শাহরিয়ার ইমন। সুকি ইতোফুসার কাটব্যাক থেকে হেডে বল জালে পাঠান তিনি। আসিয়ান কাপে এটিই বাংলাদেশের প্রথম গোল।
তবে গোল পাওয়ার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এক মিনিট পরই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বেকার। ৪২ মিনিটে নিজের চতুর্থ গোল করেন তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জাস্টিন হাবনারের হেডে ৬-১ হয় স্কোরলাইন।
বিরতির পর তিনটি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। সুকি ইতোফুসা ও শাহরিয়ার ইমনকে তুলে ফারহান আলী ও মিনহাজুল করিমকে মাঠে নামানো হয়। চোটের কারণে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়া শমিত সোমের জায়গায় নামেন সোহেল রানাও।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোলের ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি ইন্দোনেশিয়া। ৮৪ মিনিটে রমনির একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ৮৯ মিনিটে ফারহান আলী গোলের সুযোগ নষ্ট করলেও যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে রাকিব হোসেনের ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।
এরপরও ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণ থামেনি। দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকদের হয়ে প্রথম গোল করেন লুক বিকারি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ ও সপ্তম মিনিটে কেভিন ডিকস ও লি বেকার আরও দুটি গোল করলে ৯-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ইন্দোনেশিয়ার।
ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ বাঁশির পর বাংলাদেশের অধিনায়ক হামজা চৌধুরীকে ক্ষুব্ধ অবস্থায় মাঠ ছাড়তে দেখা যায়। এ সময় কোচিং স্টাফের সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এর আগে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বড় হারে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই পরাজিত হয়ে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই আসিয়ান কাপের অভিযান শেষ করল বাংলাদেশ।