রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসার পর সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ উল্লেখ করেন, তিনি সম্পূর্ণ ‘সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ফেরদৌসী। পরে তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
স্পিকারকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ লেখেন, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে এর বাইরে কোনো কারণ উল্লেখ করেননি ফেরদৌসী আহমেদ।
বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংখ্যার অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এসব আসন বণ্টন করা হয়। এবার বিএনপির মনোনয়নে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ৩০ এপ্রিল তাঁদের গেজেট প্রকাশিত হয় এবং ৩ মে তাঁরা শপথ নেন। সে হিসাবে প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন ফেরদৌসী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে ফেরদৌসীকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
এর আগে গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। পরে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর আলোচনায় আসে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নাম। ওই কার্যক্রমে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথা জানা যায়।
ফেরদৌসী আহমেদ ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। সে সময় সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে করা আবেদনে সভাপতি হিসেবে তাঁর স্বাক্ষর ছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।