মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে শক্তিশালী ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের উত্থান রিপাবলিকানদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি রাজ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।

সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের নতুন প্রজন্মের কয়েকজন প্রার্থী প্রচলিত দলীয় কৌশলের বাইরে গিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করছেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের অসন্তোষকে তারা নির্বাচনী প্রচারে কাজে লাগাচ্ছেন।

নর্থ ক্যারোলাইনার সাবেক গভর্নর রয় কুপার স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে সমর্থন পাচ্ছেন বলে সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে। গ্রামীণ এলাকাতেও তিনি রিপাবলিকানদের ভোটভিত্তিতে প্রভাব ফেলছেন বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইওয়ায় আইনপ্রণেতা জশ টুরেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো করেছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প রাজ্যটিতে ১৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেলেও এবার সেখানে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

জর্জিয়ায় জন অসফ ট্রাম্পের সমালোচনার মাধ্যমে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি করেছেন। তাঁর নির্বাচনী পারফরম্যান্স ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে তাঁকে আলোচনায় এনেছে।

টেক্সাসে জেমস তালারিকো অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসকে যুক্ত করে প্রচার চালাচ্ছেন। রাজ্যটিতে দীর্ঘ সময় পর ডেমোক্র্যাটদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো করার চেষ্টা হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ওহাইওতে ২০২৪ সালে ট্রাম্প সহজে জয় পেলেও এবার সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

প্রার্থী বাছাই নিয়েও চাপ

কয়েকটি রাজ্যে রিপাবলিকানদের প্রার্থী বাছাই নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জর্জিয়ায় মাইক কলিন্স এবং টেক্সাসে অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় মাইকেল হোয়াটলি পরিচিত মুখ হলেও কুপারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তাঁর অবস্থান তাঁর নির্বাচনী অবস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে।

জরিপে কী দেখা যাচ্ছে

সাম্প্রতিক জরিপ ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টেক্সাস ও আইওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘনিষ্ঠ, আর জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে কিছু জরিপে উঠে এসেছে। তবে নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে এবং বিভিন্ন জরিপের ফলেও পার্থক্য রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ সাধারণত নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলে। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও ভোটারদের উদ্বেগ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলেরই জনপ্রিয়তা সীমিত বলে বিভিন্ন জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট রাজ্য ও আসনের প্রার্থী, স্থানীয় ইস্যু এবং ভোটার উপস্থিতিই নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।