ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি সমাবেশে যোগ দিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ দাবি করেন তিনি। রোববার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

ট্রাম্প বলেন, তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে প্রায় সরে এসেছে। তিনি বলেন, ‘ইরান—আপনারা জানেন—পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব পরিকল্পনাই প্রায় ছেড়ে দিয়েছে।’

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে দাবি করে ট্রাম্প আরও বলেন, বর্তমানে তেলের দামও কমছে। তার ভাষায়, ‘তেলের দাম কমছে। এখন তেলের দাম কম। বাইডেন প্রশাসনের সময়ের চেয়েও এখন দাম কম। অথচ তারা ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কিছুই করেনি।’

তবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অস্বীকার করে আসছে ইরান। দেশটির দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে আনার প্রস্তাবও দেন পেজেশকিয়ান।

তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তারা কোনো আপস করবে না। যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কর্মসূচির কাঠামোগত পরিবর্তনও করা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান।

ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের অবস্থানের মধ্যে কোনো বাস্তব পরিবর্তন এসেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।