স্বাধীনতার পর থেকে অপেক্ষা, কাঁচা সড়কে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বদলায়নি শেরপুরের ঝিনাইগাতীর পাঁচ গ্রামের মানুষের ভাগ্য। মাত্র দুই কিলোমিটার সড়ক যেন তাদের উন্নয়নের পথে বড় এক বাধা। দীর্ঘদিন সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণ না হওয়ায় কাঁচা সড়কটি এখন খানাখন্দে ভরা। বর্ষায় কাদা-পানি আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে নাকাল হতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেফলাই জগদীশ মাস্টারের বাড়ি থেকে কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও রিকশার গ্যারেজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের এমনই বেহাল দশা। সরু ও কাঁচা এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে অবহেলায়।
এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল ডেফলাই, গান্ধীগাঁও, বাকাকুড়া, ভালুকা ও ফুলহাড়ি গ্রামের মানুষ। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু খানাখন্দ ও কাদায় ভরা সড়কটি তাদের স্বাভাবিক চলাচলকে কঠিন করে তুলেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে তৈরি হয় কাদা ও গর্ত। তখন যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের কাদামাটি মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। অসুস্থ রোগী কিংবা জরুরি প্রয়োজনে কাউকে নিয়ে যাতায়াত করাও হয়ে পড়ে দুঃসাধ্য।
শুধু যাতায়াত নয়, সড়কের বেহাল অবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতেও। মাঠের উৎপাদিত ফসল ও কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে কৃষকদের অতিরিক্ত সময় ও পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ কমছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ও ডেফলাই গ্রামের সমাজসেবক আল আমীন তালুকদারসহ বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই সড়কটি সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন-নিবেদন করা হয়েছে। প্রতিবারই মিলেছে আশ্বাস, কিন্তু ৫৫ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি সেই দাবি।
নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুকুনুজ্জামান বলেন, সড়কটি সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সময় উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও উন্নয়নের আশ্বাস পাওয়া গেছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অন্তো বল জানান, সড়কটি সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে? স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যেখানে মাত্র দুই কিলোমিটার সড়ক পাকা হয়নি, সেখানে উন্নয়নের সুফল থেকে এই পাঁচ গ্রামের মানুষ আর কতদিন বঞ্চিত থাকবেন—এমন প্রশ্নই এখন তাদের মুখে মুখে।
তাদের দাবি, প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে সড়কটি সংস্কার, প্রশস্ত ও পাকাকরণ করা হোক। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাক পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ।