নেত্রকোনার দুর্গাপুরে খাবারের উচ্ছিষ্ট পানি ফেলতে গিয়ে প্রতিবেশী মো. আবুল কাশেমের (৫০) হাতে এক কিশোরী (১৩) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয় মাতব্বরদের ভয়ভীতি ও অর্থপ্রলোভনের চাপ তোয়াক্কা না করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কাশেম মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত আবুল কাশেম দুর্গাপুর পৌরসভার বালিকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
​ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, গত শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে ওই কিশোরী ঘরের পাশে রাতের খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলতে যায়। এ সময় একা পেয়ে তার মুখ চেপে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন কাশেম মিয়া। ঘটনার পর শারীরিক যন্ত্রণায় মেয়েটি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিল না। পরদিন প্রতিবেশীর এক ভাবীর কাছে সে এই পাশবিকতার কথা প্রকাশ করে।
​জানা গেছে, নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। বাবা ঝালমুড়ি বিক্রি করে এবং মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে তিন সন্তান ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। এই আর্থিক অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালায় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী।
​ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর ওই পরিবারটিকে থানায় না যাওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। “ঘটনা জানাজানি হলে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া যাবে না”—এমন ভয় দেখিয়ে অসহায় পরিবারটিকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে, নিসন্তান কাশেম মিয়ার স্ত্রীও ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা হুমকি দেন। এমনকি ঘটনা চেপে রাখতে প্রয়োজনে ওই কিশোরীকে কাশেমের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলার অবাস্তব প্রস্তাবও দেন তিনি। এছাড়া অভিযুক্ত কাশেমের বিরুদ্ধে এলাকার একাধিক নারীকে উত্যক্ত ও হয়রানি করার পুরনো অভিযোগ রয়েছে।
আজ ৬ সেপ্টেম্বর ​মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে একদল গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে ভুক্তভোগী কিশোরী তাদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেয়। বিষয়টি দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদকে জানানো হলে তিনি দ্রুত পুলিশ টিম পাঠান। পরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করে।
​এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।