শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও জিগাতলা গ্রামে পৈতৃক ও ক্রয়কৃত রেকর্ডভুক্ত জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বনগাঁও জিগাতলা গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মমতা খাতুন। এ সময় মৃত আলিমুদ্দিনের ছেলে আব্দুল হানিফ ও বাচ্চু মিয়াসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মমতা খাতুন বলেন, বনগাঁও মৌজার খতিয়ান নং-১০৭-এর বিভিন্ন দাগে তাদের পরিবারের মোট ১২ একর ২৮ শতাংশ আবাদি ও বসতিজমি রয়েছে। এর মধ্যে ২ একর ৪৫ শতাংশ জমি ওয়ারিশ সূত্রে এবং সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া বলে তারা দাবি করেন। এসব জমি আরএস রেকর্ড অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করে আসছেন বলেও জানান।
পরিবারটির দাবি, ওই জমি নিয়ে প্রতিবেশী কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে তাদের জমিতে দখলের চেষ্টা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে ১৯৮৯ সালে বাটোয়ারা মামলা করা হয়। পরে ২০০০ সালের ১৪ নভেম্বর আদালত রায় এবং ২১ নভেম্বর ডিক্রি দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে বিবাদীপক্ষ আপিল করলেও পূর্বের ডিক্রি বহাল থাকে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও তারা জানান।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ, চলাচলে বাধা এবং গৃহপালিত পশু ও পুকুরের মাছ নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।
পরিবারটি আরও জানায়, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। এতে তারা নিজেদের জমি ও বসতবাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের দাবি করা ২ একর ৪৫ শতাংশ জমির বিষয়টি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি, বসতবাড়ি ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।