খুলনার পাড়া লোহাপট্টি—স্থানীয়দের কাছে অনেকটা ‘ধোলাইখাল’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এখানে নতুন-পুরাতন লোহা, বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক তারসহ নানা সামগ্রী কেনাবেচা হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে বাজারের পরিধি ও ব্যবসা বাড়লেও এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাস্তা দখল, অনিয়ম ও জনভোগান্তির অভিযোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি বা অবৈধভাবে সংগ্রহ করা বৈদ্যুতিক তার, লোহার যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন মালামাল এখানে কেনাবেচা হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, বাজারটির অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সঠিক ভ্যাট-ট্যাক্সের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার দুপাশ দখল করে দোকানের মালামাল রাখা, অনিয়মিতভাবে ট্রাক ঢুকিয়ে পণ্য ওঠানামা এবং দীর্ঘ সময় রাস্তা আটকে রাখার কারণে সরু সড়কগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

ফলে বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা থেকে শুরু করে আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে অনেকটা নিজেদের নিয়মেই চলছে বাজারটি। অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দখলদারিত্ব আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

এদিকে বাজারের অনিয়ম ও জনভোগান্তি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ, অপমান ও হুমকির অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দিন দিন বাজারের ব্যবসা সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি যানজট ও জনদুর্ভোগও বাড়ছে। এতে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাদের প্রশ্ন—দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব অনিয়ম দেখার কি কেউ নেই?

খুলনাবাসীর দাবি, খুলনা সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে রাস্তা দখলমুক্ত, নিয়মবহির্ভূত লোড-আনলোড বন্ধ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধতা ও ভ্যাট-ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখুক। নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে পণ্য ওঠানামার ব্যবস্থা করে বাজারের ভেতর যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে চুরি বা অবৈধভাবে সংগ্রহ করা মালামাল কেনাবেচার অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, ‘ব্যবসা চলুক, কিন্তু সাধারণ মানুষের রাস্তা বন্ধ করে নয়।’ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সামনে এই এলাকায় যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।