পড়াশোনার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছুটে আসেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। নিজ জেলা ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে নতুন শহরে এসে পড়াশোনা, আবাসন ও দৈনন্দিন জীবন সামলে চলতে হয় তাদের। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে চলাচলের সময় বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিশেষ করে নোয়াখালীর স্থানীয় পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে অপরিচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এছাড়াও বিভিন্ন সূত্রমতে জানা যায় নোয়াখালীর মাইজদী শহরে প্রায় ১৫০ এর ও বেশি কিশোর গ্যাং গ্রুপ রয়েছে যারা মাদক,ইভটিজিং, চুরি, ছিনতাই, অপহরণসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।এসব কিশোর গ্যাংয়ের গ্রুপ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠছে বলে স্থানীয়রা জানান। এসব কিশোর গ্যাং গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য নানা অপরাধ কার্যক্রম করে এবং উন্মুক্তভাবে শহরে গুরুত্বপূর্ণ নানা স্থাপনা ও শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট সংলগ্ন এলাকায় এমনকি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা বাসে কিশোর গ্যাং গোষ্ঠী তাদের গ্রুপের নাম লিখে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে এবং জনমনে আতংক সৃষ্টি করছে।এছাড়াও কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন গ্রুপকে বিভিন্ন সময়ে মাইজদী শহরে ছুড়ি, রামদা,চাপাতিসহ নানা দেশীয় অস্ত্রসহ মহরা দিতে দেখা গেছে।শহরের স্থানীয় মানুষদের পাশাপাশি এসব কিশোর গ্যাং দ্বারা চুরি,ছিনতাই, অপহরণ,ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে পড়তে আসা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ এবং নারী শিক্ষার্থীরাও।সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গত ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাইজদী শহরের বার্লিংটন মোড় এলাকায় নোবিপ্রবি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মব সৃষ্টি করে মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির ঘটনা ঘটে।
মোবাইল চুরির ঘটনায় নোবিপ্রবি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী আরমান হোসাইন জানান,
“গত ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ২০২৬ তারিখে আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে আমার বসতবাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি লেগে থাকা দুটি বহুতল ভবনের গ্রিল বেয়ে উঠে চোর চক্রের সদস্যরা চারতলার খোলা জানালা দিয়ে ভেতরে হাত বাড়িয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে মোবাইল ফোনটি চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই, উক্ত দিন বিকেলের দিকে বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় থানায় একটি লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করি।”
উক্ত মব সৃষ্টির ঘটনায় উপস্থিত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একই সেশনের শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ বলেন,
“কিছুদিন আগে বার্লিংটন মোড় এলাকা থেকে আমার বন্ধু আরমানের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। আজ একই এলাকায় ল্যাপটপ চুরি করার সময় দুই যুবক হাতেনাতে ধরা পড়ে। বিষয়টি আমাদের সিনিয়রদের মাধ্যমে জানতে পেরে আমরা চোরদের দেখতে এবং আমাদের চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে সেখানে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে যাই।
তবে সালিশে উপস্থিত হয়ে আমরা যখন মোবাইল ফোনের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করি, তখন এলাকাবাসী ও অভিযুক্তদের অভিভাবকেরা আমাদের সহযোগিতা না করে উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হন।
পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতেই বাড়ির মালিক এবং অভিযুক্তদের মা-বাবাসহ উপস্থিত অন্যান্যরা চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয় এবং আমাদের অনেকের ওপর চড়াও হয়ে গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন।”
এ বিষয়ে উপস্থিত সমাজবিজ্ঞান ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফখর উদ্দিন বলেন,
“গত কিছুদিন আগে পৌরবাজার এলাকার বার্লিংটন মোড় থেকে আমার বন্ধু আরমানের মেস থেকে ভোর পাঁচটার দিকে আমার বন্ধুর মোবাইল চুরি হয় আজ তার পাশের ফ্ল্যাট থেকে আমাদের নোবিপ্রবি ইকোনমিক্স বিভাগের ১৭ ব্যাচের এক ভাইয়ের মেস থেকে ল্যাপটপ চুরি হয়। এলাকাবাসী ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় দুইজনকে ধরেছে।
এ ঘটনা শোনার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন আমরা বন্ধুরা মিলে কথা বলতে যায় কথা বলতে গেলে এলাকাবাসী জানায় আপনাদের মোবাইল সে চুরি করেছে, এর যেহেতু প্রমাণ নেই তাই আপনারা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করুন। মোবাইল চুরির ঘটনা নিয়ে আমরা আগে সুধারাম থানায় জিডি করে রেখেছিলাম তাই থানার সাথে যোগাযোগ করে একজন পুলিশ নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করলে স্থানীয় কিছু মানুষ পুলিশ এবং আমরা স্টুডেন্টের উপর মব সৃষ্টির চেষ্টা করে। উক্ত ঘটনাস্থলে কিছু স্থানীয় মানুষ আমার বন্ধু সালমান হোশমীর এবং সজীবের গায়ে হাত তোলেন। ঘটনার চরম আকার দেখে পুলিশ অতিরিক্ত ফোর্স আনে এবং আমাদের নিরাপদে বের করে আনেন এবং থানায় যেতে বলেন।”
উক্ত ঘটনায় নোবিপ্রবির প্রক্টরিয়াল বডির সামাজিক বিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির দায়িত্বরত সহকারী প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,
শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বদা এগিয়ে আসবে। উক্ত ঘটনায় প্রসাশন জানান শিক্ষার্থীরা যখন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলো তখন প্রসাশনকে এই বিষয়ে অবগত করা হয়।
প্রসাশনের উক্ত দায়িত্বরত কর্মকর্তা আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে মোবাইল চুরি হওয়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং তার সহপাঠীদের পক্ষেই ছিলো। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন পুলিশ নিয়ে যায় তখন স্থানীয় বাসিন্দারা বিপক্ষে চলে যায়। তখন স্থানীয়রা আসামিদের পুলিশকে দিতে আপত্তি জানায়।
তারপরেও পুলিশ আসামীদের থানায় নেওয়ার পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না এই বিষয়ে প্রক্টোরিয়াল বডির সাথে ওসি সাহেবের আলোচনা হয়।
এছাড়াও তিনি জানান, মামলা না করে স্থানীয় বাসিন্দা, থানার ওসি, ভুক্তভোগীদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য৷ যেহেতু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার একটা বিষয় আছে সেহেতু এখানে বিষয়টি মীমাংসা করা জরুরি।
এসব ছাড়াও গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে নোবিপ্রবির সিএসটিই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঠক্কর এলাকায় রিক্সাওয়ালার মাধ্যমে অপহরণের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী রিক্সা থেকে লাফ দিয়ে নিজের জীবন বাঁচিয়েছিলেন।
এছাড়া গত ১৫ জুন ২০২৬ইং তারিখে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছিলো। অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে টাকা দাবির ঘটনাও ঘটে।
তাছাড়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে গত ৩০ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখ রাত ৮টার পর ক্যাম্পাস থেকে শহরে আসার পথে অপরহণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনাও রয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা শেফা বলেন, “আমরা দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রায় প্রতিদিনই মাইজদি শহরে যেতে হয়। বাসা থেকেও অনেকসময় ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়। তখন ক্যাম্পাসের বাস থাকে না।কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নেশাগ্রস্ত থাকে।তারা টাকা পয়সার জন্য যে কাউকেই আক্রমণ করতে পারে।আমি প্রসাশনের কাছে এবিষয়ে আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই “।
বিজিই বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ইমন বলেন, ” আমরা টিউশন করাতে মাইজদী যেতে হয়। অনেক সময় টিউশন শেষ করতে দেরি হয় বা বাস মিস করি। তখন লোকালে আসতে হয়।নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য যেভাবে বাড়তেছে কবে যেন আমি এসবের শিকার হই আল্লাহ জানেন।সত্যি বলতে আমি আমার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও নোয়াখালী প্রসাশন যেন এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।”
মাইজদী শহরের প্রাণকেন্দ্রে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রসহ প্রকাশ্যে মহরা দেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে জনমনে আতংক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে পুলিশের কাছে জানতে চাইলে সুধারাম থানা পুলিশ সদস্য সুমন বণিক জানান, “কিশোর গ্যাং ধমন করার জন্য আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।আমরা প্রায় প্রতিদিনই কিশোর গ্যাংয়ের কাউকে না কাউকে ধরছি এবং গত ৩০শে সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ১৬৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছি।কিশোর গ্যায়ের এসব সদস্যকে ধরার পর তাদের পরিবারের সাথে কথা বলে অনেক সময় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেই কিংবা প্রয়োজনে আদালতে সোপর্দ করি।” শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এবিষয়ে কথা বলতে আগ্রহ দেখাননি।
এবিষয়ে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। তাদের অনেকেই ক্যাম্পাসের বাইরে শহরের বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়িতে থাকে। তাই ক্যাম্পাসের বাইরেও তাদের নিরাপত্তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও ল্যাপটপ চুরি, ছিনতাই কিংবা হয়রানির মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। একজন শিক্ষার্থী যদি পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকে, তাহলে তার শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।”
কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টিকে শুধু কয়েকজন কিশোরের অপরাধ হিসেবে দেখলে হবে না। তাদের পেছনে কারা আছে, কীভাবে তারা সংগঠিত হচ্ছে এবং মাদক বা অন্য কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যারা কিশোরদের অপরাধে সম্পৃক্ত করছে বা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সক্রিয় ও ধারাবাহিক ভূমিকা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে এবং শিক্ষার্থীদের বসবাসের এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান থাকলে যেকোনো ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”
কিশোর গ্যাং দমনে শুধু গ্রেপ্তার নয়, অপরাধের সামাজিক কারণগুলোও চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, মাদক, অসুস্থ সঙ্গ, অর্থের প্রলোভন কিংবা অপরাধী চক্রের প্রভাব—কোন কারণে একজন কিশোর অপরাধে জড়াচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
সবশেষে তিনি বলেন, “নোয়াখালী এখন শুধু একটি জেলা শহর নয়, এটি হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের ঠিকানা। একজন শিক্ষার্থী যেন রাতে মেসে ফেরার সময় নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে, প্রয়োজনীয় ল্যাপটপ বা মোবাইল নিয়ে দুশ্চিন্তায় না থাকে এবং পরিবার যেন সন্তানকে নোয়াখালীতে পাঠিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়—এমন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।”
একের পর এক এমন ঘটনায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াতের সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।