ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় নতুন রাসায়নিক সারের ডিলার নিয়োগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) ডিও লেটার বা সুপারিশপ্রাপ্তরাই এগিয়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন দাবি করছে সংসদের কাছে।
উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে সম্প্রতি চারজন ডিলার নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে সাম্প্রতিক পটপরিবর্তনের পর যোগ দেওয়া ‘হাইব্রিড’ নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চরভদ্রাসন উপজেলার চারটি ইউনিয়নের জন্য চারজন নতুন ডিলারের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। অনুমোদিত ডিলার ও তাদের প্রতিষ্ঠানের তালিকাঃ
​চরভদ্রাসন ইউনিয়নঃ মেসার্স অথিক এন্টারপ্রাইজ (স্বত্বাধিকারীঃ মো. আলীমুজ্জামান মোল্যা), চরভদ্রাসন বাজার।
​গাজীরটেক ইউনিয়নঃ মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজ (স্বত্বাধিকারীঃ সৈয়দ নাসিম আহমেদ), চর অমরাপুর, গাজীরটেক।
​চর হরিরামপুর ইউনিয়ন: মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজ (স্বত্বাধিকারীঃ সামছুন্নাহার), আমির খার হাট।
​চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নঃ আরশ এন্টারপ্রাইজ (স্বত্বাধিকারীঃ সৈয়দ মোহাম্মদ দীপু), দক্ষিণ চরকল্যাণপুর।
​অভিযোগ রয়েছে, সদ্য অনুমোদিত ডিলারদের মধ্যে গাজীরটেক ইউনিয়নের মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজ এবং চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের আরশ এন্টারপ্রাইজের মালিকরা মূলত সুযোগসন্ধানী। গত ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা সুযোগ বুঝে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। অথচ বছরের পর বছর যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের পেছনে ফেলে এই নবাগত বা ‘হাইব্রিড’ নেতারাই এমপির বিশেষ সুপারিশ আদায় করে লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়েছেন দাবি করছে সুবিধা বঞ্চিতরা।
লাইসেন্স প্রাপ্তিতে অনেক অনেক লাখের অধিক টাকা ব্যয়ীত হয়েছে বলে অনেকেই দাবি করেছে। তা না হলে দলের ত্যাগী নেতাদের চেয়ে হাইব্রিড নেতাদের কেন সুপারিশ প্রাপ্তি হয়েছে এটাও তদন্তের দাবি করছে ভুক্তভোগীরা।
​তৃণমূলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ডিলার নিয়োগে দলীয় ত্যাগ কিংবা যোগ্যতার চেয়ে সুপারিশ ও তদবিরকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে নির্ভরযোগ্য সত্যে জানা গেছে । কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সার সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে এ ধরনের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের সুষ্ঠু তদন্ত ও পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বঞ্চিতরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম জানিয়েছেন সাংসদের কোন ডিও লেটার আসে নাই। সাংসদ নিরপেক্ষতায় ছিল। জেলা ডিলারশিপ নিয়োগ কমিটির সুপারিশে মন্ত্রণালয় বিবেচিত হয়েছে।