নিজের একখণ্ড জমি বা মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। দুই মেয়ের জামাইয়ের সংসারে আশ্রিত থেকে বছরের পর বছর কাটছিল কুড়িগ্রামের হাসনাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টালানাপা গ্রামের স্বামীহারা মোছাঃ এজি বেগমের। অবশেষে সেই ভিটেহীন বৃদ্ধার সহায়তায় এগিয়ে এসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবীরা; তৈরি হচ্ছে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের বিত্তবান মকবুল হোসেন এজি বেগমকে ঘর তোলার জন্য নিজের জমি ব্যবহারের অনুমতি দেন। বিষয়টি জানতে পেরে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাৎক্ষণিক প্রাথমিক মানবিক সহায়তা প্রদান করেন। এতে ঘর নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করা সম্ভব হলেও অর্থের অভাবে বর্তমানে নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।

​সামাজিক সংগঠন ‘হাসনাবাদ যুব ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা’ ও ‘অগ্রপথিক’-এর সভাপতি এবং ‘ডিস্ট্রিক্ট ক্লাইমেট নেটওয়ার্ক কুড়িগ্রাম’-এর সহ-সভাপতি মো. হেলাল হোসেন জানান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
​উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করে হেলাল হোসেন বলেন, “ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় ঘরের মূল কাঠামোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে ঘরটি পুরোপুরি বাসযোগ্য করতে এবং তাঁর জন্য একটি টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন স্থাপন করতে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এ দুটি সুবিধা ছাড়া তাঁর পক্ষে এখানে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা অসম্ভব।”
​জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক টুকরো শান্তিময় ঠিকানা নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এজি বেগমের পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।