২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারক নাভি পিল্লাইকে দেওয়ার ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নোবেল কমিটির এ সিদ্ধান্তে পুরস্কারটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক। তাঁর মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় পিল্লাইয়ের উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান নেই।
এর আগে পুরস্কার পাওয়ার পর রসিকতা করে পিল্লাই বলেছিলেন, উপস্থিত শ্রোতারা আরও কিছুক্ষণ হাততালি দিলে তিনি হয়তো পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসা ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্মানির নুরেমবার্গে ঐতিহাসিক আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে নাভি পিল্লাই তাঁর পুরস্কার আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের উৎসর্গ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
ট্রাম্পের সমালোচনার বিপরীতে পিল্লাইয়ের কাজের প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি পিল্লাইকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে কয়েক দশক ধরে কাজ করে যাওয়া একজন অবিচল কণ্ঠস্বর হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পুরস্কার শুধু পিল্লাইয়ের ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার ও মানবমর্যাদা রক্ষায় কাজ করা মানুষের সংগ্রামেরও স্বীকৃতি।
সূত্র: ফার্স্টপোস্ট