সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলার ধরন, হতাহতের সংখ্যা এবং এর জন্য কারা দায়ী—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
দাবি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ, মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের হতাহতের খবর উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর জরুরি উদ্ধার তৎপরতায় ২০টির বেশি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে যায় বলে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন পশ্চিমা মিশন নাগরিকদের সতর্ক করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া একাধিক ফ্লাইট বাতিল বা অন্য গন্তব্যে সরিয়ে নেওয়ার খবর দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের ৪০১ নম্বর গেটের কাছে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিমানবন্দরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করেন বলে এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে পূর্ব সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের অংশ পড়েছে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বরাত দেওয়া হয়েছে। তবে এ তথ্যেরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
ইয়েমেন সংঘাতের প্রেক্ষাপট
২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করে। এরপর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত। তবে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার জন্য তাদের দায়ী করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে চূড়ান্তভাবে কোনো পক্ষকে দায়ী করা উচিত নয়।
সূত্র হিসেবে উল্লেখিত: বিবিসি ও আল জাজিরা। মূল প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে সংবাদটি প্রকাশ করা উচিত।