কুমিল্লার দেবিদ্বারে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে চাচা ও চাচিকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা বশিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত নারীর বাঁ হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তার দাবি, আত্মরক্ষার্থে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

সম্প্রতি দেবিদ্বার উপজেলার জয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ১০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হতো। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আবারও বিরোধ দেখা দিলে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা বশির তাঁর চাচা ও চাচির ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে আহত নারীর বাঁ হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয় উল্লেখ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা বশির বলেন, এটা আমাদের পারিবারিক ঝামেলা—বিগত ১০ বছর ধরেই চলে আসছে। তারা আমাকেও আঘাত করেছে, তাই আমি নিজেকে বাঁচাতে আত্মরক্ষা করেছি।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।