জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের আয়োজনে বিশ্ব মাসসিক স্বাস্থ্য দিবস- ২০২৬ উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সোমবার সকালে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র্যালী শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের চতুর্থ তলায় ‘নবযুগ’ কনফারেন্স কক্ষে ‘শুনুন, সংযোগ স্থাপন করুন, সহায়তা করুন: মানসিকভাবে সংগ্রামরত একজন মানুষকে কীভাবে সাহায্য করবেন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি কাজে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করায় সেমিনারের প্রধান অতিথি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন উপস্থিত হতে পারেন নি। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ ইমদাদুল হুদা।
বিশেষ অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘মানুষকে মহান আল্লাহ আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা হিসেবে তৈরি করেছেন। মানুষ সামাজিক জীব। তবে বর্তমান ইন্টারনেট ও মোবাইলের আসক্তির কারণে বিশেষ করে তরুণ সমাজ অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। একে অন্যের সাথে ভাবের আদান-প্রদান কমে যাচ্ছে। ফলে মানুষের মাঝে এক অস্থিরতা ও একাকিত্ববোধ চলে আসছে। এরফলে অনেকে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে এবং কেউ কেউ আত্মহননের পথও চেছে নিচ্ছে। অথচ আগে আমরা খেলতাম, গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়ে পড়তাম। সময়ের সাথে সাথে আজ সময় কাটানোর পদ্ধতি পরিবর্তিত হচ্ছে। তোমাদেরকেও বই পড়া এবং খেলাধুলার অভ্যাসের দিকে ফিরে আসতে হবে। তোমাদের পরাজিত হলে চলবে না, হতাশাকে জয় করতে হবে। একে অপরের সাথে শেয়ার করতে হবে এবং শুনতে হবে। সবশেষ মনোচিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।’
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস- ২০২৬ এর মূল প্রতিপাদ্য অভিজ্ঞতার কথা শোনা: বাস্তব মানুষের কণ্ঠস্বর, বাস্তব পরিবর্তন। উল্লেখ্য প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদ্যাপন করা হয়।
সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও শিশু মনোবিজ্ঞানী মেশকাত নওশিন কেয়া। তিনি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. আশরাফুল আলম। সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক আদিবা আক্তার।