শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে স্থায়ী ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার সকালে বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি প্রতিষ্ঠানের সামনের মাঠ হয়ে স্কুল ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক আবু রায়হানের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
প্রতিষ্ঠানের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক আবু সাদাত মো. মোস্তফা কামাল জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আচরণগত সমস্যার কারণে কিরণ নামে ওই শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। গত বছর চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় সে দ্বিতীয়বারের মতো সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছিল। সাময়িক বহিষ্কারাদেশ শেষে গত সোমবার সে প্রথমবারের মতো শ্রেণিকক্ষে আসে।
তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ বিঘ্নিত করার ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর নাম বোর্ডে লেখা ছিল। ক্লাস ক্যাপ্টেনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষক আবু রায়হান তাকে মৃদু শাসন করেন। পরে স্কুল ছুটির পর মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল ও কলেজের গেটের সামনের সড়কে শিক্ষক রায়হানের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের উপাধ্যক্ষ শফিকা আক্তার বলেন, শিক্ষকের ওপর এ ধরনের হামলায় শিক্ষক সমাজ আতঙ্কিত। এটি শুধু আবু রায়হান স্যারের ওপর হামলা নয়, বরং পুরো শিক্ষক সমাজের ওপর আঘাত। শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের কখনো কখনো শাসন করতে হয়। কিন্তু এ ঘটনার পর শিক্ষকেরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহা. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে স্থায়ী ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার মতো ঘটনা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করে। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।